ঝালকাঠিতে একটি বাড়ি খননের সময় পুরাতন কিছু মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, মুদ্রাগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ভাগ করে নিয়ে গেছে। তারা মুদ্রাগুলোকে ‘গুপ্তধন’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও পুলিশ বলছে, গুপ্তধন বলতে কিছু নেই। অনেক দিন আগে জমানো কয়েকটি মুদ্রা পাওয়া গেছে। কৌতুহলী মানুষ না জেনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ছড়াচ্ছে। মুদ্রাগুলো রৌপ্য কি না তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বাবুল হাওলাদার নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান। 

তিনি বলেন, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে চারটি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কোনো মুদ্রা ছিল কি না তা সন্ধানে কাজ চলছে।

জানা গেছে, ঝালকাঠি শহর সংলগ্ন বাসন্ডা খালের তীরে পৌর মেয়র মো. লিয়াকত আলী তালুকদার দুই বছর আগে নারায়ন পাল নামে এক ব্যক্তির পুরোনো ভবনসহ জমি কেনেন। নারায়ন পাল সম্পত্তি বিক্রি করে ভারত চলে যান। সেখানে শনিবার (২ জুলাই) বিকেলে বাড়ি ভেঙে এস্কাভেটর দিয়ে খনন করার সময় মাটির নিচে পুতে রাখা একটি কলসি উঠে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, ওই কলসির মধ্যে শতাধিক রৌপ্যমুদ্রা রয়েছে। এমনকি কলসি ভেঙে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কিছু মুদ্রা নিয়ে যান। পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার নাজমা বেগম বলেন, এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে খনন করার সময় আমরা একটি কলস দেখতে পাই। কলসের মধ্যে শতাধিক রূপার মুদ্রা পাওয়া গেছে। 

আমার কাছ থেকে আফজাল এসে সব মুদ্রা নিয়ে গেছে। পুলিশ আসার আগেই আফজাল পালিয়ে যান। তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া চারটি মুদ্রার মধ্যে ১৯০৭ সাল লেখা রয়েছে।

ঝালকাঠি পৌর মেয়র মো. লিয়াকত আলী তালুকদার দাবি করেছেন, নারায়ন পালের কাছ থেকে ক্রয়ের পর বিগত সাতমাস আগে আমি ওই বাড়িটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আফজালের কাছে বিক্রি করে দিই। গুপ্তধন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমি আসলে কিছুই জানি না। লোকমুখে অনেক কথা শুনি। সত্য কথা হলো, আমি বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পর এসব নিয়ে আর কোনো খোঁজ করিনি। 

সৈয়দ মেহেদী হাসান/আরআই