রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে একটি কালভার্টের সংযোগ সড়ক দেবে গেছে। এতে সড়কের একাংশের মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়াতে সড়কটিতে প্রায়শই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। দিন দিন খানাখন্দে এই সড়ক ধরে চলাচলে বেড়েছে জনদুর্ভোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে গঙ্গাচড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে তিস্তা নদী ও বোল্লারপাড় সড়কের কালভার্টটির এক দিক বৃষ্টির পানিতে দেবে যায়। কালভার্টটি গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শিমুলের বাড়ির সামনে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে কালভার্টের সংযোগ সড়কের এক দিক বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শিগগিরই কালভার্টের সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য গর্ত ভরাট করে সড়কটি সংস্কার করা হোক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টের সংযোগ সড়কটি দিয়ে গঙ্গাচড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মোড়, তিস্তা নদী ও বোল্লারপাড় যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। অন্তত প্রতিদিন এই সড়ক ধরে তিন হাজারের বেশি মানুষ ছোট বড় যানবাহন নিয়ে চলাচল করে থাকে। কালভার্টের একদিকে দেবে যাওয়ায় দিন দিন সেখানকার মাটি সরে যাচ্ছে। এতে সংযোগ সড়কটি সরু হয়ে আসছে। একইসঙ্গে এই সড়কে ছোট-বড় প্রায় ১০-১৫টি গর্ত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে কোলকোন্দ ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম ও গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের দুটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। কোনো সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনাও।

আব্দুর রহিম পায়েল নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ছোট ছোট সমস্যা থেকেই তো বড় কিছু হয়। এখন কালভার্টের এক দিকে সংযোগ সড়কটি দেবে গেছে। কিছু দিন পর আরেক দিকেও যেতে পারে। নিম্নমানের কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখন সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাচ্ছে, ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। খানাখন্দে ঠিকমতো ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে গেছে।

বোল্লারপাড় গ্রামের কৃষক আজিজুল বলেন, কালভার্টটি এখন কমবেশি হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় এক পরীক্ষার্থী রিকশাসহ উল্টে পড়ে যায়। প্রশাসনের কাছে আমাদের চাওয়া কালভার্টের সংযোগ সড়কসহ এই সড়কের অন্যান্য গর্ত যেন দ্রুত মেরামত করা হয়।

এই সড়ক ধরে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন ভ্যানচালক নজরুল মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কালভার্টটির সংযোগ সড়ক প্রায় তিন মাসে আগে বৃষ্টির পানিতে ভেঙে যায়। এখনো জনপ্রতিনিধিরা এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাহলে কি কালভার্টটি এভাবেই থাকবে? কালভার্টের সংযোগ সড়ক ভাঙার কারণে আমরা ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে পারছি না।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিমুল মিয়া জানান, কালভার্টের সংযোগ সড়কটিতে সৃষ্ট ভাঙনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। শিগগিরই এই কাজ করে দেবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজারুল ইসলাম লেবু জানান, বোল্লারপাড় থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত এই সড়কের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন সামনে বছর কাজ শুরু হবে। 

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসপি