সুনামগঞ্জে লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন হেফাজত নেতাকর্মীরা

সুনামগঞ্জে ভোর থেকে লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। সড়কে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে দিচ্ছেন না তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ পরিবহন চলাচলে বাধা দিচ্ছেন হেফাজত কর্মীরা। রিকশা, অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। মোটরসাইকেলে করে লাঠি হাতে শোডাউন করছেন। সেখান থেকে জিহাদের ডাক দিচ্ছেন। প্রশাসনের সামনে এমন পিকেটিং করলেও নিরব রয়েছে তারা।

রবিউল তার অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর। শহরের ভেতরে বলে বের হতে পারলেও আব্দুজ জহুর সেতু পার হয়ে রাধানগর পয়েন্ট আর পেরুতে পারেননি তিনি। ফিরে আসতে হয়েছে বাসায়। তিনি বলেন, আমার এক নিকট আত্মীয় অসুস্থ। শহরের ভেতরে হেফাজতের কর্মীদের অনুরোধ করলে ছেড়ে দেয় তারা। কিন্তু রাধানগর পয়েন্টে গিয়ে দেখি ব্লক দিয়ে অবরোধ করা হয়েছে। ব্লক পার হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমি বাসায় ফিরে এসেছি।

এদিকে মল্লিকপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। শহরের ভেতরে যেসব যান চলাচল করছে তাদেরও আটকে দিচ্ছেন হরতালকারীরা। চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। লাঠি হাতে হুমকি দিচ্ছেন চালকদের। এতে যান নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন চালকরা।

মোটরসাইকেলে করে শোডাউন দিচ্ছেন হেফাজত নেতাকর্মীরা

এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনও রয়েছে নিরব। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা রাখছেন না। লাঠি হাতে হেফাজতের কর্মীরা হুমকি ও বাধা দিচ্ছেন চালকদের, চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন- এ রকম দৃশ্য পুলিশ প্রশাসন দেখেও দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।

শহরতলীর নবীনগরের বাসিন্দা অটোরিকশার চালক আলাল বলেন, আমি সকাল ৬টায় সিএনজিতে গ্যাস নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এখন আমাকে যেতে দিচ্ছে না। রোদের মাঝে দাঁড় করিয়ে রাখছে। হাত জোড় করে অনুরোধ করলাম, অন্তত আমাকে বাসায় যেতে দেওয়া হোক। আমি বাসায় চলে যাব। কিন্তু তারা আমাকে যেতে দিচ্ছে না। পুলিশও আমাকে কোনো রকম সাহায্য করছে না।

সুনামগঞ্জ জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমি আসতে চাইছিলাম না। আমাদের হুজুররা বলেছেন, লাঠি হাতে সড়কে থাকতে। আমার সহপাঠীরা লাঠি হাতে সড়কে রয়েছে। কোনো যান চলাচল করতে দিচ্ছে না। পুলিশের সামনেও গাড়ি আটকাচ্ছে তারা। পুলিশ কিছু বলছে না। 

সাইদুর রহমান আসাদ/এসপি