বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনে অন্তত ১০০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ইছামারা এলাকায় আকস্মিক এই ভাঙন দেখা দেয়। মাত্র ৩০ মিনিটের ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষেরা। 

এর আগে গতকাল  বুধবার থেকে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর চলে আসে। এতে বগুড়ার তিন উপজেলা সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনটের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানির স্রোতে একটি স্পার বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ধসে গেছে।

কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাছেদুউজ্জামান রাসেল ১০০ পরিবাবের ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ১০০ পরিবারের একেবারে সব ভেসে গেছে। আরও অন্তত ২০০ পরিবার বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়হীনদের ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দড়িপাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ইছামারা, টিটুরমোড়, ফকিরপাড়া, খোকার মোড় এলাকা বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই হুমকির মুখে পড়ে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিল। সম্প্রতি যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন তীব্র হয়ে উঠে। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ইছামারা এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে ভাঙন শুরু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে নিমিষেই গ্রামবাসীর বসতবাড়ি, ফলের গাছ, ঘরের তৈজসপত্র নদীতে ভেসে যায়। অনেকের হাঁস-মুরগি নদীতে ভেসে গেছে।

ইছামারা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুল বাছেদের দুটি ঘর ছিল। চোখের সামনে নদীভাঙনে হারাতে দেখেছেন তিনি। ছাগলগুলো কোথায় তাও জানেন না। তিনি বলেন, স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে এখন কোথায় গিয়ে উঠবো। কোনো আবাস নাই আমার।  

হাওয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ঘরের ভেতর থেকে বিছানা-বালিশ কিছুই নিতে পারিনি। গহনা ছিল সেটিও গেল নদীতে।

ইছামারা গ্রামের রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, কামালপুর ইউনিয়নের ভাঙন এলাকায় ঠিকাদাররা ধীর গতিতে কাজ করেছেন। প্রথম থেকে দ্রুত কাজ করলে এমনটি হতো না। মাত্র ৩০ মিনিটে চোখের সামনে নদী সব ভেঙে নিয়ে গেল। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারিয়াকান্দি সার্কেলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কামালপুর ইউনিয়নের ইছামারা গ্রামের ১২০০ মিটার জুড়ে প্রায় ১০০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্ষার শুরু থেকে কামালপুর ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চারটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ঠিকাদার কাজ করছিলেন। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের বন্যায় হঠাৎ করে ভাঙন তীব্র হয়। এসব স্থানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

আরএআর