‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়’। নোয়াখালী সার্কিট হাউজের নজরকাড়া ফুলের বাগান জনপ্রিয় সেই রবীন্দ্র সংগীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ সভা কিংবা বিশিষ্টজনের অবকাশযাপনের কেন্দ্র নয়, নোয়াখালী সার্কিট হাউজ ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন রূপে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এরকম ফুলের বাগান কমই দেখা মেলে। এখানে শীতে নজর কাড়ছে দেশি বিদেশি বাহারি ফুল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রকৃতিপ্রেমীরা ফুলের সুরভি নিতে ছুটে আসছেন এই ফুল বাগানে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আসছেন ফুল দেখতে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানের পরিচর্যা করতে। সার্কিট হাউজে বাহারি ফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য দেখার পর যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। কোথাও হলদে গাঁদা, কোথাও কালচে লাল।

রয়েছে সানফ্লাওয়ার ব্যান্ডেজ, ডায়ান্থাস, ফ্লক্স, চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালেন্ডুলা, মর্নিং গ্লোরি, সুইট পি, অ্যাজালিয়া, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, ডালিয়া, চায়না জাম্বুসহ নানান রকমের ফুলের গাছ। সার্কিট হাউজে আসা ব্যক্তিরাও ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ভুল করছেন না। বিগত বছরের তুলনায় এবছর ফুলের সমারোহ বেশি থাকায় শীতে সার্কিট হাউজের পরিবেশকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

ফুল চিনতে প্রভাতী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সার্কিট হাউজে এসেছেন ফুল দেখতে। তাদের মধ্যে থাকা প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহাইমিন হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে। অনেকগুলো ফুল দেখলাম। সার্কিট হাউজটা সুন্দর এবং ফুলগুলোও সুন্দর।

রামিসা তাবাসসুম নামের আরেক শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে আমরা ফুল দেখতে এসেছি। সাথে আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকও রয়েছেন। সার্কিট হাউজটা অনেক সুন্দর এবং ফুলগুলোও অনেক সুন্দর। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

ধ্রুব চন্দ্র মজুমদার নামের এক অভিভাবক ঢাকা পোস্টকে বলেন, সার্কিট হাউজের পরিবেশ শিশুরা দেখে নিজেদের বিকশিত করতে পারছে। আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি। ও খুব খুশি হয়েছে। সে আমাকে বলছে বাবা খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই সার্কিট হাউজের পরিবেশ মনোরম এবং সুন্দর।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সার্কিট হাউজে ঘুরতে আসা শিক্ষক আমেনা খাতুন শিল্পী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সার্কিট হাউজের ফুলগুলো দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। মনের ভেতরে অন্য এক অনুভূতির জন্ম নেয়। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘুরতে এসেছে। তার খুবই আনন্দ করছে। ফুলের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। সারা বছরজুড়ে এ রকম ফুলে ফুলে সুশোভিত থাকুক, রং-বেরঙের এসব ফুলের গন্ধ সার্কিট হাউজকে মাতিয়ে রাখুক এটাই আমরা চাই।

নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু ঢাকা পোস্টকে বলেন, সার্কিট হাউজ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে অনেকেই আসতে ভয় পায়। কিন্তু দৃষ্টিনন্দন ফুলে ফুলে সুরভিত সার্কিট হাউজ দেখতে শিশুরা আসছে এটা তাদের মনকে বিশাল করবে। ফুল দেখতে আসার মাধ্যমে তাদের ভয় দূর হবে। ভয়কে জয় করে তারা একদিন অনেক দূরে যাবে। ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে উৎসাহ কাজ করবে।

 

জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মেহরাব হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় সার্কিট হাউজের ফুলের বাগানকে সাজানো হয়েছে। এখানে দেশি-বিদেশি বাহারি ফুলের অসংখ্য গাছ রোপণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে রোপণ করা ফুল গাছে ইতোমধ্যে প্রচুর ফুল ফুটেছে। মনোরম পরিবেশের তৈরি হয়েছে। যারা আসছেন তাদের আশা করি ভালো লাগছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। মানুষের সৌন্দর্যপ্রেম সহজাত। সহজাত সৌন্দর্যপ্রেম থেকেই সৌন্দর্যের প্রতীক ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ। এর পাপড়ির বিন্যাস, রঙের বৈচিত্র্য ও গন্ধের মাধুর্য মানুষের মনকে ভরে তোলে স্বর্গীয় আনন্দে। ফুলকে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোমলমতি শিশুরা ফুল দেখতে আসছে। ফুলের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ফুলকে যারা ভালোবাসে তারা সবাইকে ভালোবাসতে পারে। এমন ফুলের বাগান দেখে তারা ফুল বাগানের প্রতি আগ্রহী হবে। এখন ছাদ বাগান হচ্ছে তারা সেই ছাদ বাগানে ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হবে।

হাসিব আল আমিন/পিএইচ