নরসিংদীর রায়পুরায় স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর ঘরে ঢুকে দুজনেরই গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেন প্রাক্তন স্বামী। এ ঘটনায় দুজনেই গুরুতর দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ওই নারী ভর্তি হয়েছিলেন। তবে হাসপাতালে ভর্তির একদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর তদন্ত মীর মাহবুবুর রহমান। এর আগের দিন রোববার দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণেরটেক এলাকায় প্রাক্তন স্ত্রীর ঘর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে পুলিশের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি বিভাগে পাঠান স্থানীয়রা। 
 
অগ্নিদগ্ধরা হলেন, রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়ন ব্রাহ্মণেরটেক গ্রামের মফিজ উদ্দিন মেয়ে লতা আক্তার (৩২)। তিনি ঢাকার গুলশান এলাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক। অপরজন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী গ্রামের আতর আলী বেপারীর ছেলে খলিল (৪০)। তিনি লতা আক্তারের সদ্য ডিভোর্স দেওয়া স্বামী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, লতা আক্তার ও খলিল উভয়ের মাঝে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে দুজনে গোপনে বিয়ে করে সংসার পাতেন। সম্প্রতি দুজনের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে চিকিৎসক লতা আক্তার এক নারী উকিলের মাধ্যমে তার প্রেমিক স্বামীকে তালাক নামা পাঠান। তবে প্রেমিক স্বামী খলিল তাকে নিয়ে সংসার করতে চান। এ নিয়ে উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে গ্রাম্য সালিসি দরবার হয়। পরে গতকাল রোববার দুপুরে ওই নারী বাবার বাড়ির একটি ঘরে অবস্থানকালে স্থানীয়রা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে আসে এবং দুজনকেই দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুজনকেই ঢাকায় পাঠান। সোমবার বিকেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

রায়পুরা থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর তদন্ত মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, গতকাল পুলিশি উপস্থিতিতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বিকেলে প্রাক্তন স্বামী খলিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। নিহতের স্বজনরা থানায় এসেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

তন্ময় সাহা/এমএএস