বরগুনার তালতলী উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই রিলং উৎসবে জলকেলিতে মেতেছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরাতন সব বিভেদ ভুলতে তিন দিনব্যপী চলবে রাখাইনদের সর্ববৃহৎ এ উৎসব। 

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নামিসেপাড়া নামক এলাকায় তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা এ উৎসবের উদ্বোধন করেন।  

বরগুনার তালতলীতে প্রতি বছরই রাখাইন নববর্ষকে বরণ করতে রাখাইন সম্প্রদায় সাংগ্রাই রিলং (জলকেলি) নামক উৎসবের আয়োজন করে। শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণী, বয়স্ক নারী-পুরুষ সবাই এতে অংশগ্রহণ করেন। একে অন্যের শরীরে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এ উৎসব পালন করা হয়। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গান, নাচ ও ফানুস উড়ানোসহ আরও নানা ধরনের আয়োজন থাকবে রাখাইনদের এ উৎসবে। 

দলি ফু মার্মা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা সবাইকে অভিনন্দন জানাই। এ উৎসবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে অংশগ্রহণ করায় আমাদের খুব ভালো লেগেছে। আমাদের এ উৎসবে সব ধর্মের মানুষই আসতে পারবে। নতুন বছরের নতুন দিনকে সাংগ্রাই রিলং (জলকেলি) উৎসবের মাধ্যমে আমরা উপভোগ করছি। 

চন্দ্রা নামের আরেকজন রাখাইন তরুণী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাঙালিদের জন্য যেমন পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য তেমন এই উৎসব। বছর শেষে নতুন বছরে আমরা এই উৎসব পালন করি। সারাবছর ধরে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে মনোমালিন্য, কথা-কাটাকাটি, ঝগড়া বিবাদ হয়। নতুন বছরে সবকিছু ভুলে গিয়ে একে অন্যকে মঙ্গল পানি ছিটিয়ে দিয়ে আমরা উৎসব পালন করি। 

জলকেলি উৎসবে আসা নিনিলে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটা আমদের নববর্ষের প্রথমদিন। আমরা এভাবে পুরানো বছর শেষ করে এখন নতুন বছর বরণ করে নেই। 

বরগুনা জেলা রাখাইন সমাজ উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মংচিন থান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জলকেলি উৎসব আমাদের পুরানো একটি উৎসব। পূর্বপুরুষ থেকেই আমরা এ উৎসব পালন করে আসছি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর শুধু নামিসে পাড়ায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পটুয়াখালী থেকেও এখানে অনেকে এসেছেন। এ উৎসবের মাধ্যমে আমরা পুরানো বছরকে ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই।

রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই রিলং (জলকেলি) উৎসবের উদ্বোধন শেষে রাখাইন সম্প্রদায়ের সঙ্গে জলকেলিতে অংশগ্রহণ করেন তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বছর তলতলীতে এ উৎসবটি সব থেকে বড় আকারে পালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে কারণে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

আরকে