রংপুরে ঝলমলে রোদের আড়ালে মৃদু শৈতপ্রবাহ
নতুন বছর, নতুন সকাল। মেঘের কোলে ঝলমলে রোদের হাসি। রংপুরে মিষ্টি রোদে কিছুটা কমেছে শীত আর কুয়াশার দাপট। জনজীবনে ফিরেছে স্বাভাবিক গতি। তবে রংপুর বিভাগের তিন জেলা কাঁপছে মৃদু শৈতপ্রবাহে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে মৃদু শৈতপ্রবাহ হচ্ছে। এসব জেলায় কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিজ্ঞাপন
সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও নীলফামারীর ডিমলায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং রংপুরে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে রংপুরসহ আশপাশ এলাকায় সূর্যের মুখ কোথাও দেখা যায়নি। বৃষ্টির মতো ঝরেছে শিশির। ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল প্রকৃতি। জনজীবনসহ কৃষি ও প্রাণিজগতে পড়েছিল নেতিবাচক প্রভাব। প্রাত্যহিক কাজকর্ম যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনি তীব্র শীতে ভুগেছেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
নদী তীরবর্তী মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন নগরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা চর ও বাঁধে আশ্রিত মানুষ। অপরদিকে নানা শীতজনিত রোগে পড়ছেন শিশু-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, নদীর তীরোত হামার বাড়ি। ঘরের ভেতরোত হু-হু করি বাতাস ঢোকে। আইতোত থাকতে ম্যালা কষ্ট হয়। ঠান্ডাত বাহিরোত বের হওয়া যায় না।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের আনসার আলী বলেন, ভোরবেলা আর সন্ধ্যার পর শীত ও কুয়াশার জন্তে কারণে বেশি কষ্ট হয়। ঠান্ডা বাতাসে অনেকেই সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। গতকালের মতো আজ সকালে সূর্যের ঝলমলে আলোয় কিছুটা স্বস্তি বোধ করছি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রকোপ। গত কয়েক দিনের তুলনায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, শীতজনিত রোগবালাই বিশেষ করে নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, এসব রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে গরম কাপড় পরানো জরুরি। মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন বাচ্চাদের শীত না লাগে। তবে বেশি অসুস্থ মনে হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে রংপুরসহ আশপাশ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে।
আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুর বিভাগে রাত ও দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনে কোথাও কোথাও বেশি শীত অনুভূত হতে পারে। জানুয়ারিতে একাধিক শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা রয়েছে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরকে