বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার আহত বিএনপি নেতা মো. জামাল উদ্দিন আইসিইউতে আট দিনের লড়াই শেষে মৃত্যুবরণ করেছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত জামাল উদ্দিন নোয়াখালী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উত্তর ফকিরপুর বায়তুস সালাম মসজিদের সেক্রেটারি।

ঘটনা অনুসারে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জামাল উদ্দিন ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা নোয়াখালি থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। কুমিল্লার বাগমারা এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজনের উপর উঠে যায়। এতে অন্তত ৩২ জন আহত হন, তাদের মধ্যে জামাল উদ্দিন ও আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহত জামাল উদ্দিনকে ঢাকায় বিআরবি হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়, যা বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. শাহজাহান দলের পক্ষ থেকে বহন করেন।

বাসের যাত্রী এবং নোয়াখালী শহর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের সোহেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, হঠাৎ বাসটি কেঁপে ওঠে এবং সড়কের বিভাজনের উপরে উঠে যায়। মুহূর্তেই চিৎকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে জামাল উদ্দিন ও ইউসুফ ভাইকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নিহতের ছেলে মো. রিয়াদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি বাবার সঙ্গে গাড়িতে ছিলাম। আমি সামান্য আহত হলেও বাবা গুরুতর আহত ছিলেন। বাবার চিকিৎসা চলছিল। ঢাকায় এনেই বাবাকে আইসিউতে ভর্তি করানো হয়। বাবার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।

জামাল উদ্দিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী জেলা বিএনপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। জামাল উদ্দিন আমাদের অত্যন্ত প্রিয় নেতা ছিলেন। আট দিন আইসিউতে থাকার পর তিনি মারা যান। তার মৃত্যু আমাদের জন্য অগণিত ক্ষতি ও শোকের বিষয়। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

হাসিব আল আমিন/এএমকে