ছবি : জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী (বামে), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খালেক (ডানে)

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে নির্বাচন আইন অনুযায়ী তার প্রার্থিতা আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জানা গেছে, যাচাই-বাছাইয়ের সময় ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করলেও এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করেননি। সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খালেকের দেওয়া যাচাইয়ের কাগজে ভোটারদের স্বাক্ষরের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে তিনজনের স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া আবদুল খালেকের মনোনয়নপত্র ভোটারদের স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হওয়ায় অবৈধ ঘোষণা করা হয়। যাচাইয়ে ১০ জন ভোটারের মধ্যে তিনজনের স্বাক্ষর জাল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমকে বিকেল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।

ভোটারের স্বাক্ষর জালের বিষয়ে বিএনপি নেতা আবদুল খালেকের মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক সরকার, জাতীয় পার্টির আবদুস সোবাহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আক্কাছ আলী সরকার, বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মামুনুর রশিদ, জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এবং গণ অধিকার পরিষদের নুরে এরশাদ সিদ্দিকী। এদের মধ্যে আজ জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খালেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এআরবি