পেশায় আইনজীবী হলেও আইন পেশা থেকে কোনো আয় নেই নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর। জোট সরকারের সাবেক এই উপমন্ত্রীর মোট বাৎসরিক আয় ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা। এ ছাড়া তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি পেশায় নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী উল্লেখ করলেও আইন পেশা থেকে কোনো অর্থ আয় করেন না। তার বার্ষিক আয়ের পুরোটা আসে ভিন্ন উৎস থেকে। কৃষিখাত থেকে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার আয়ের সিংহভাগ আসে আর্থিক পরিসম্পদ খাত থেকে। এই খাত থেকেই তার বাৎসরিক আয় ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা।

সাবেক এই উপমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, তার হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৪ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ টাকা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ আছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তবে দুলুর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র ও বিভিন্ন মেয়াদি আমানতে, যার পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার ১৬১ টাকা। অলঙ্কার হিসেবে তার নামে রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণ।

স্থাবর সম্পদের হিসাবে রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে তার নামে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। নিজ এলাকা নাটোরের আলাইপুরে রয়েছে তিনতলা একটি বাড়ি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ টাকা। এ ছাড়া হলফনামায় তার নামে ৪০ বিঘা কৃষিজমি থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরোনো রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে মোট ৪৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন ধারার ১৭টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ না করে কল কেটে দেন। ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি।

উল্লেখ্য, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নাটোর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো এমপি হয়ে তিনি চারদলীয় জোট সরকারের ভূমি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন।

আশিকুর রহমান/এআরবি