‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী), পিরোজপুর-২ (কাউখালী, নেছারাবাদ, ভান্ডারিয়া) ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় এই তিন আসনের ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলেসহ ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তা ছাড়া, তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

‎শনিবার (৩ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টায় পিরোজপুর-১ আসন, দুপুর ১২টার পিরোজপুর-২ আসন ও বিকেল ৩টায় পিরোজপুর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ এ ঘোষণা দেন।

‎বৈধ প্রার্থীরা হলেন—পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। পিরোজপুর -২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আরেক ছেলে শামীম সাঈদী, এবিপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টি (জেপা) মনোনীত প্রার্থী মহিবুল হাসান। পিরোজপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার।

‎বাতিল প্রার্থীরা হলেন—পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং পিরোজপুর-৩ আসনের সতন্ত্র প্রার্থী মো. তৌহিদুজ্জামান। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের ঋণখেলাপী থাকায় এবং বাকি দুইজনের এক শতাংশ ভোটার তথ্যে গড়মিলের কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

‎স্থগিত প্রার্থীরা হলেন—পিরোজপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আ. জলিল শরীফ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মাশরেকুল আজম রবি। মনোনয়নপত্রের কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় তাদের স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ সাপেক্ষে তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে।

‎পিরোজপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পিরোজপুরের তিনটি আসনে মনোনয়ন দাখিলকরা ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া, তিনজনের মনোনয়ন বাতিল এবং দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের ঋণখেলাপী থাকায় এবং বাকি দুইজনের এক শতাংশ ভোটার তথ্যে গড়মিল এবং দুজনের কাগজপত্রে ঘাটতি থাকায় তাদের স্থগিত রাখা হয়েছে।

‎জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর জেলার তিন আসন থেকে মোট ২২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। শেষ সময় পর্যন্ত এর মধ্যে ১৬ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর ১ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী। পিরোজপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শামীম সাঈদী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, সতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদ হেসেন, এবিপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টি (জেপা) মনোনীত প্রার্থী মহিবুল হাসান। এ ছাড়া, পিরোজপুর-৩ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, এনসিপির শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদের করিম শিকদার এবং সতন্ত্র প্রার্থী মো. তৌহিদুজ্জামান।

‎তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ২১ জানুয়ারি দেওয়া হবে প্রতীক বরাদ্দ। নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ভোটগ্রহণ।

‎শাফিউল মিল্লাত/এএমকে