বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা। খরাপ্রবণ এই উপজেলাটি একসময় কৃষিনির্ভর অর্থনীতির চাপে নুইয়ে ছিল। তবে গত এক দশকে এখানকার কৃষিতে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। এখন ধান, পাট ও গমের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে টমেটো, পেয়ারা, ড্রাগন, মালটা ও কমলার মতো ফল। 

কৃষকরা বলছেন, উঁচু-নিচু এসব জমিতে একসময় খরার কারণে বছরে ধান বা গমের চাষ হতো। এখন সেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফল ও সবজির চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকের আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি এসেছে। তবে যাদের হাতে ফসল ফলন হতো তাদেরই এখন ধান বা গম কিনে খেতে হয়। 

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ফসল ও ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পচন ঝুঁকিতে পড়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কৃষি অফিসের একটি সূত্র জানায়, প্রতি বছর রাজশাহীতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদন হয়। সংরক্ষণের অভাবে এর ৫ থেকে ১০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনতে হয় প্রান্তিক পর্যায়ের চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল পড়ে তানোর ও গোদাগাড়ীতে। তানোরের তুলনায় গোদাগাড়ী উপজেলা ফল ও ফসলে বেশি সমৃদ্ধ। এই উপজেলায় চাষাবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৪১ হাজার ১৯৯ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে মোটা দাগে এসব জমিতে ধান, সবজিসহ ২২ ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। এছাড়া আম, পেয়ারা, ড্রাগন, মালটা ও কমলার চাষও হচ্ছে। এর ফলে এই এলাকায় হাজারো বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি অর্থনীতিতেও এসেছে গতি।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি বছরে এই উপজেলায় টমেটোর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫৬০ টন। ২৫ টাকা কেজিতে বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া মাল্টা ১৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও এর উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫২ টন। প্রতি কেজি ৯০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ড্রাগন ১৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হলেও উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ টন। প্রতি কেজি ১৪০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৮০ টন। ৭০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া সাড়ে ৮ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৩৫ টন। ১২০ টাকা হারে বাজারমূল্যে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

গোদাগাড়ীর হুজরাপুরে পেয়ারা ও মাল্টা চাষি হাবিবুর রহমান বলেন- ‘আগে এসব জমিতে বছরে একবার ধানের চাষ হতো। ধান বিক্রি করে যে টাকা হতো তাতে বছর পার করতে কষ্ট হতো। কিন্তু এখন এসব জমিতে ফলের বাগান করা হয়েছে। বাগান বিক্রি করে প্রতি বছর মোট অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। সেই টাকা দিয়ে অনেকেই মৌসুমে অল্প দামে ধান কিনে নেই। সারা বছর সেই ধানের ভাত খাই। বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির গঠন ফলচাষের জন্য অনুকূল। গেল ১০ বছরে টমেটো ও ফলজাত ফসলের আবাদ বেড়েছে কয়েকগুণ। এর ফলে এলাকার অর্থনীতিতে এসেছে গতি।’

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বেশকিছু ড্রাগনের বাগান চোখে পড়বে। একই সঙ্গে রয়েছে পেয়ারা, মাল্টার বাগান। উপজেলার রাজাবাড়ি থেকে হুজরাপুর, কাঁকনহাট অংশে বেশি পেয়ারা, মাল্টর বাগান রয়েছে। রাজাবাড়ি হয়ে আগুলপুর, বিড়ইল, লালাটিয়া, ভাদুপাড়া, সেনাডাঙ্গা, যোগপুর, কুন্দলীয়া এলাকার সড়কের দুই পাশে শত শত বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যাগে।

মাল্টা চাষি আলী নয়ন বলেন, চাষিরা ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসল ফলন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ এসব ফসল ফলাতে চাষিদের খরচ বেশি। কিন্তু লাভ কম। তাই মানুষ বিভিন্ন ফল চাষে আগ্রহী হয়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি ভালো ধানের দাম প্রতি মণ ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এই দাম আবার সবসময় থাকে না। আর ৪০ টাকা কেজি দরে এক মণ পেয়ারার দাম পড়ে ১৬০০ টাকা। এই দাম বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে। এর চেয়ে অনেক সময় দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পেয়ারা ছাড়া অন্যসব ফল চাষে সার, কিটনাশ, সেচ ছাড়াও সবধানের খরচ কম।  

পাইকারি বিক্রিতা আব্দুস সালাম বলেন, গোদাগাড়ী এলাকার পেয়ারা, মাল্টা ও ড্রাগনের স্বাদ ভালো। এই সব ফলগুলোর রাজশাহীর বাজারে ভালোই চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এসব রাজশাহী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবারহ করা হয়। চাষিরা এই ফলগুলো চাষে বেশি আগ্রহী। কারণ তারা বাগান থেকে সরাসরি টাকা পেয়ে যাচ্ছে। এই কারণে তাদের দিন দিন অর্থকরী ফলস হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী কৃষিতে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনি সংকটও রয়েছে। সঙ্কটের দিক থেকে কৃষি পণ্য সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। খাদ্যের অপচয়, কৃষকের অর্থনৈতিক ক্ষতি দেখা দেবে। কারণ পণ্য পচে যাওয়া, দাম কমে যায়, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে যা খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের আবাদি জমির হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা (যেমন খরা ও অতিবৃষ্টি), সার ও উপকরণের অভাব ও মূল্য বৃদ্ধি, অপর্যাপ্ত সেচ ও পানির সংকট, এবং বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্যের অভাব। যা কৃষকদের লাভ কমিয়ে দিচ্ছে। 

অপরদিকে, রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা অনেক, বিশেষত ফল, সবজি (যেমন- আম, লিচু, আলু, পেঁপে) এবং সুগন্ধি ধানের (যেমন কালিজিরা, নাজিরশাইল) উৎপাদনে, যা কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও রপ্তানির অপার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা জরুরি।

গোদাগাড়ী উপজেলায় ধান, পাট ছাড়া ২২ ধরনের সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল ফলে। এছাড়া ফলের দিক থেকে আম, পেয়ারা মাল্টা, কমলা ড্রাগন ও বরই রয়েছে। গেল ১০ বছর আগেই এসব ফলের আধিক্য ছিল না বরেন্দ্র এই অঞ্চলে। বছরজুড়ে কয়েক ধরনের ধান, পাটের চাষ হতো। তবে পানির ব্যবহার কমাতে এসব জমিতে অর্থকরি ফসল হিসেবে ঢুকে গেছে এসব বিভিন্ন ফল।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গেল ৫ বছরের (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) হিসেবে জেলার গোদাগাড়ীতে বেশ কিছু ফসলের চাষ কমেছে। কিন্তু বেড়েছে ফলের চাষ। সেই হিসেবে ২০২০-২১ সালে এই উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছিল ২৪ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২৪-২৫ সালে কমে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। আউশ ধানের ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৯৭৪ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৫ হেক্টরে। বোরো ধানের ক্ষেত্রে ১৫ হাাজর ৫০ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৫ হেক্টরে। গমের চাষ ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫ হেক্টরে। তবে ভুট্টার ক্ষেত্রে ৪ হাজার ২০ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টরে। একইভাবে আলু ১ হাজার ৮৫৩ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৪ হেক্টরে। এছাড়া উল্লেখ যোগ্যহারে বেড়েছে মিষ্টি আলুর চাষ। গেল পাঁচ বছরে এই উপজেলায় ৩০ হেক্টর থেকে মিষ্টি আলু চাষের জমি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৫ হেক্টরে।

গেল পাঁচ বছরে ৩৬ হেক্টর থেকে ৩৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে আখের চাষ। ৮১০ হেক্টর থেকে বেড়েছে পাটের চাষ দাঁড়িয়েছ ৮৭৫ হেক্টরে। সবজির চাষ ৬ হাজার ৬৮৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৮৩ হেক্টরে, সরিষা ৭ হাজার ২১০ হেক্টর থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৬৩০ হেক্টরে, তিল ১২০ হেক্টর থেকে বেড়েছে হয়েছে ৭২৫ হেক্টর, মসুর ১২০ থেকে বেড়েছে ৫ হাজার ১৮৫ হেক্টর। তবে কমেছে ছোলা চাষ। ১ হাজার ৩২৫ হেক্টর থেকে হয়েছে ৫৪৮ হেক্টর, মুগ ডাল ১২৫ হেক্টর থেকে হয়েছে ৬ হেক্টর, মাসকালাই ১ হাজার ১২০ হেক্টর থেকে কমে হয়েছে ৮১০ হেক্টর, খেসারী ১৭৫ হেক্টর থেমে কমে হয়েছে ১৪৫ হেক্টর। এছাড়া মসলার মধ্যে ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টর থেকে কমে ১ হাজার ২৬৭ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ১৬০ হেক্টর থেকে কমে রসুন চলতি বছরে চাষ হয়েছে  ১৫০ হেক্টর, ৪৪৫ হেক্টর থেকে কমে মরিচ চাষ হয়েছে ৩৬৫ হেক্টরে। 

তবে ধান, পাট, আখের থেকে ভিন্ন চিত্র ফলে। গেল পাঁচ বছর এই উপজেলায় বেড়েছে ফলের চাষ। চাষিদের দাবি- ফল সরাসরি বিক্রি করা হয়। সুদ্বাদু হওয়ার কারণে চাহিদাও ভালো এই অঞ্চলের ফলের। তাই দিন দিন পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন তাদের কাছে অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। এই উপজেলায় গেল পাঁচ (২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫) বছরের চিত্র বলছে- ২০২০-২১ সালে পেয়ারার চাষ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে। পাঁচ বছরে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৫ হেক্টর। ২ হাজার ২৭৫ হেক্টর থেকে পাঁচ বছরের বেড়ে ১৬৫ হেক্টর জমিতে মল্টার চাষ হয়েছে। এক হেক্টর থেকে বেড়ে কমলার চাষ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৮ ক্টেররে। এছাড়া ২০ হেক্টর থেকে গেল পাঁচ বছরে ড্রাগনের চাষ বেড়েছে ১৯৫ হেক্টর।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়াম আহমেদ বলেন, ‘গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র এলাকায় টমেটো, ড্রাগন ফল, মাল্টা, কমলা ও পেয়ারা বাম্পার ফলন হওয়া এ অঞ্চলের কৃষির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। খরা প্রবণ ও উঁচু জমিতেও এসব ফসল চাষ করে কৃষকরা ভালো লাভের মুখ দেখছেন। বরেন্দ্র এলাকার মাটি ও জলবায়ু এসব উচ্চমূল্যের ফল ও সবজি উৎপাদনের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। এ সব ফসল পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি ফসল বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি এখন আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে।’

চলতি বছরে এই উপজেলায় টমেটোর চাষ হয়েছে ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৫৬০ টন। যার মধ্যে ২২ হাজার টন টমেটো কেনে প্রাণ গ্রুপ। তারা টমেটো দিয়ে সস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে।

রতন আলী নামের আরেক চাষি বলেন, ‘এখন টমেটো, পেয়ারা চাষে ভালো লাভ। টমেটো আগাম চাষ করতে পারলে মৌসুমে ভালো দাম পাওয়া যায়। আর পেয়ারা তো সারা বছর বিক্রি করা যায় কমবেশি। ধান, গম ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের এসব ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তরুণরা। অনেকে বাগান তৈরি করেছেন ড্রাগন, মালটা ও কমলার। বিক্রি ভালোই হচ্ছে তাদের।’

টমেটো ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘টেমেটো বাজারজাত করণের লক্ষ্যে প্রতিদিন তার সঙ্গে কাজ করেন ৩০ থেকে ৩৫ জন পুরুষ। তাদের প্রতিদিন মুজুরী হিসেবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিতে হয়। তারা বিভিন্ন জমিতে তোলা টমেটোগুলো গাড়িতে করে একটা নিদীষ্ট জায়গায় রাখবে। নষ্টগুলো বাদ দিয়ে ঝুঁড়িয়ে রেখে ওজন করবেন। এসব টমেটোগুলো প্রাণ ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে পাঠানো হয়।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, রাজশাহী, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় এবং ঠাঁকুরগাও জেলায় প্রাণ এর চুক্তিভিত্তিক কৃষকেরা টমেটো উৎপাদন করে থাকে। তবে বেশিরভাগ টমেটো রাজশাহী অঞ্চল থেকে নেওয়া হয়। গত মৌসুমে প্রাণ কৃষকদের কাছ থেকে ২২ হাজার টন টমেটো সংগ্রহ করেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এবং নাটোরের এক ডালায় প্রাণ এগ্রো লিমিটেড কারখানাতে আম  ও টমেটো সংগ্রহ ও পাল্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রাণ গ্রুপ।

এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এই এলাকায় পানির সঙ্কট। চাষিরা চাই অল্প পানি ব্যবহার করে ফসল ফলাতে। আমরাও তাদের সেই বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। ধান চাষে পানির সেচ লাগে। কিন্তু সেই হিসেবে পেয়ারা, ড্রাগন বা মাল্টা চাষে সেই রকম পানির প্রয়োজন পরে না। আর চাষিরা যে ফসল চাষে লাভবান হবে তারা সেই দিকেই ঝুঁকবে। এটাই স্বাভাবিক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বলেন, চাষিরা ধান চাষ করছে না, এর মূল কারণ লাভ কমে গেছে। আমের উৎপাদন খরচের সঙ্গে দাম তেমন পাচ্ছে না চাষিরা। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ফলের চাষ করছে। বরেন্দ্র এলাকায় পানের সঙ্কট। সেখানে ধান বা অন্য ফসল চাষের ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার বেশি। কিন্তু পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগনের চাষে পানি কম লাগে। এরসব ফলের মার্কেটও ভালো। চাষিরা সুবিধা মতো সময়ে বাগান থেকে সরাসরি বিক্রি করতে পারেন। পচন বা নষ্টের ঝুঁকি কম থাকে।

রাজশাহী অঞ্চলে সবজি বা পচনশীল ফসল সংক্ষেণের ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সবজি বা পচনশীল ফসল সংক্ষেণের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিবছর অনেক সবজি নষ্ট হয়। কোনো সরকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হয় না। রাজশাহীতে কৃষি ব্যাংক আছে তারাও সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থার দিকে আগায় না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবে।

আরকে