রংপুরে সহস্রাধিক ছিন্নমূল মানুষের পাশে সেনাবাহিনী
প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুরে অস্বচ্ছল, ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষে মাঝে শীতবস্ত্রের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর উত্তম স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ১ হাজার ৫০ জনের হাতে উন্নতমানের কম্বল বিতরণ করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশন এই আয়োজন করে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া, অন্যান্যের মধ্যে ৭২ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আজম চৌধুরী ও উত্তম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তীব্র শীতে সেনাবাহিনীর উপহারের শীতবস্ত্র ও আর্থিক অনুদান পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা।
বিজ্ঞাপন
আলেয়া বেগম, বয়স প্রায় ৮০ বছর। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগে। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়ে এখন একা থাকেন বাড়িতে। এদিক সেদিক ঘুরে অথবা আশপাশের মানুষ যা দেন তাই দিয়ে কোনোরকমে দিন কেটে যায়। কম্বল হাতে পেয়ে খুশিতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন এই বৃদ্ধা।
কম্বল নিতে এসেছিলেন আলেয়ার মতো ৩নং ওয়ার্ডের বানিয়াপাড়ার শতবর্ষী শুকরন, মমতাজ, মাস্টারপাড়ার শফিকসহ (৮০) সহস্রাধিক দুঃস্থ।
উষ্ণতার কম্বল শরীরে জড়িয়ে শুকরন জানান, তার স্বামী মারা গেছেন ২০ বছর আগে। চার ছেলে। ছেলেদের মাঝে খেয়ে পড়ে কোনো রকমে দিন পাড়ি দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর দেওয়া কম্বল এবার শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও দূর করবে।
এদিকে গত দুই দিন ধরে রংপুরে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় তীব্র শীত বিরাজ করছে। সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে উত্তরের জনপদ। এতে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাপমাত্রা আরও কমবে বলে জানিয়েছে রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বিকেল ৩টায় ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় রংপুরে শীত আর ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে গেছে। এতে করে কনকনে ঠান্ডায় সর্দি, হাঁচি-কাঁশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। যার ফলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন।
রংপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মাঝা থেকে ঘন কুয়াশা পড়া এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যহত হতে পারে।
এদিকে রমেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ডিসেম্বরের ১৯ তারিখ থেকে শীতজনিত রোগে রমেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৬ জন। যাদের মধ্যে জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৫ জন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে