ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারের স্বাক্ষর, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

রোববার (৪ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেনী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফেনী-২ আসনে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, কানাডা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবীর পাটওয়ারী ও মো. ইসমাইলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
 
এছাড়া ফেনী-৩ আসনে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে মৃত ভোটার, উল্লেখিত ভোটারের তথ্য না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় ও সরকারি কাজে কার্যাদেশ থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুল হক রিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ফেনী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর একপ্রকার হ্যারাসমেন্ট। যেখানে নির্বাচনমুখী করতে রাষ্ট্র ও সরকার সহায়তা-উৎসাহ দেওয়ার কথা, সেখানে আমাদের নিয়মিত হয়রানি করা হচ্ছে। নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট, আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ্যে স্বাক্ষর-এ বিষয়টিও কেমন দ্বন্দ্বের। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের এ ধারার বিপরীতে আমি রিট করেছি। সবমিলিয়ে এটি একটি বাজে সিস্টেম।
 
ভোটার তালিকায় মৃতের স্বাক্ষর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, মৃত ব্যক্তির তথ্য হালনাগাদ করা নির্বাচন কমিশনের অপরাধ। এখানে একপ্রকার ভুল হয়েছে, মৃত ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। গায়ের জোরে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রতি সমর্থনের নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য আপিল বা পরবর্তী কোনো প্রক্রিয়ায় যাব না।  

এদিন ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা বলেন, যেসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্বাচন কমিশনে আগামী ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতায় অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।  

তারেক চৌধুরী/এমএএস