৪০ কেজি ওজনের বিলুপ্তপ্রায় গঙ্গা কাছিম মেঘনায় ছেড়ে দিলেন জেলেরা
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া প্রায় এক মণ ওজনের একটি বিরল প্রজাতির গঙ্গা কাছিম পুনরায় নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে স্থানীয় জেলেরা কাছিমটি ছেড়ে দেন।
জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের আজমার খাল এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝির জালে কাছিমটি ধরা পড়ে। জাল টানার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ অতিরিক্ত ভার অনুভব হলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে জাল তুলে বিশাল আকৃতির কাছিমটি দেখতে পান তিনি।
বিজ্ঞাপন
খবর ছড়িয়ে পড়লে চরকিং ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। স্থানীয় লোকজন কাছিমটি এক নজর দেখার জন্য নদীর পাড়ে জড়ো হন। পরে জোয়ারের সময় কাছিমটিকে নদীতে অবমুক্ত করা হলে সেটি স্রোতের সঙ্গে মেঘনার গভীর অংশে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ফরিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এর আগে কখনো এত বড় কচ্ছপ দেখিনি। মেঘনায় মাঝেমধ্যে কচ্ছপ দেখা গেলেও এত বড় আকারের কচ্ছপ খুবই বিরল। নিজের চোখে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি।
বিজ্ঞাপন
জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলাম। জাল তুলতে গিয়ে দেখি খুব ভারী কিছু আটকে আছে। তুলে দেখি বিশাল আকৃতির একটি কচ্ছপ। জীবনে এত বড় কচ্ছপ আগে কখনও দেখিনি। তাই সবাই মিলে আজ মেঘনায় ছেড়ে দিয়েছি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই প্রজাতির কাছিম সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এটি একটি বিরল ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেদের জালে এ ধরনের প্রাণী ধরা পড়লে তা অবমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইনের ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।
হাসিব আল আমিন/এআরবি