৭.৫ ডিগ্রিতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, বিপর্যস্ত জনজীবন
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বিজ্ঞাপন
তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই বলেন, শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম, এখন শীতের কারণে যাওয়া যায় না। তাই হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাত-পা বরফ হয়ে যায়, তবে হাঁটলে শরীর একটু গরম হয়।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান বলেন, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
আফজালুল হক/আরকে