জামায়াতের প্রার্থী হারুনের নেই বাৎসরিক আয়, হাতে নেই নগদ টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ (৬৪)। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হারুনের কোনো বার্ষিক আয় নেই। হলফনামায় নির্ভরশীলদের পেশার তালিকায় তিনি তার স্ত্রী মুরশিদা ফেরদৌসীর নাম উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হারুনের হাতে কোনো নগদ অর্থ নেই। তবে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, পাংশা শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে তার জমা রয়েছে ৭ হাজার ১১ টাকা। তার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে, যার অধিগ্রহণ মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর ২ দশমিক ৫০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার ৪৪ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় হারুনের অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত প্রার্থী হারুন ও তার স্ত্রীর নামে কোনো কৃষিজমি নেই। তবে হারুনের নামে ১ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ শতাংশ অকৃষিজমি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে হারুনের স্ত্রী মুরশিদা ফেরদৌসীর নামে একটি আধাপাকা ঘর রয়েছে, যার মূল্য হলফনামায় ৩ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। হারুনের স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ২ লাখ টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। হলফনামায় হারুনের নামে কোনো দায়-দেনা বা ঋণ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণ অনুযায়ী, হারুনের আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭২ টাকা। এর বিপরীতে তিনি ৩ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
হলফনামায় জামায়াত প্রার্থী হারুনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ (পাস) উল্লেখ করা হয়েছে। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং তার স্ত্রীকে গৃহিণী হিসেবে দেখিয়েছেন। অতীতে হারুনের নামে আদালতে ৪টি মামলা ছিল বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে তিনি সেসব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় দাবি করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম আসজাদ ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী ইঞ্জি. একেএম নাসিরুদ্দিনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়। ১৯৯৬ সালের পর এই আসন থেকে জামায়াত এককভাবে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এআরবি