মাগুরা জেলায় মসজিদভিত্তিক মক্তবের শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ৩৬টি মক্তবের ২৭০ জন শিশুকে পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রথম সবক প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরআন শরীফ, কোরআন রাখার রেহেলসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৯ জানুয়ারি) মাগুরা জেলা মডেল মসজিদে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মুফতি জুবায়ের আহমেদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট ও ইসলামিক অনলাইন মাদ্রাসার বিশেষ উদ্যোগে এবং এসো কুরআন শিখি ফাউন্ডেশন ও আদ দাওয়াহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর ব্যবস্থাপনায় এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি মাওলানা শাহ সাইফুল্লাহ।বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা আলী হাসান, মাওলানা মুশাহিদ আলী চমকপুরি, মাওলানা মুস্তাফিজ সালমান, মাওলানা জসিমুদ্দিন ও মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ।

এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

লামিয়া নামে এক শিশু শিক্ষার্থী বলেন,আজ প্রথম কোরআন শরীফের সবক পেলাম। কোরআন আর রেহেল পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমি নিয়মিত কোরআন পড়তে চাই।

আয়ান নামে আরেক শিশু শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কোরআন শেখানো হচ্ছে, এটা খুব ভালো লাগছে। বড় হয়ে আমি কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী চলতে চাই।

মুস্তাফিজ সালমান নামে এক অভিভাবক বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাগুরা জেলায় একসঙ্গে ৩৬টি মক্তবের ২৭০ জন শিশুকে কুরআনুল কারীমের প্রথম সবক প্রদান নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে করে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই কোরআনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের চরিত্র গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হবে।

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা সাকিবুল ইসলাম বলেন, শিশুদের মাঝে কোরআন শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুরা ভবিষ্যতে দ্বীনদার, নৈতিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তাছিন জামান/এনটি