রংপুর-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল মামুনকে ঘিরে তরুণ ভোটারদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগে থাকা এই প্রার্থীকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা। তারা বলছেন, চব্বিশের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দীর্ঘদিনের অবহেলিত আসনটির উন্নয়নে যারা ভূমিকা রাখার যোগ্যতা রাখেন, তাদের একজন আল মামুন।

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে প্রতীক বরাদ্দের আগে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে পাড়া-মহল্লায়, গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে ছুটে বেড়াচ্ছেন এনসিপি মনোনীত এই প্রার্থী। ‘হ‍্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। ভোটারের সঙ্গে তিনি গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় করছেন।

স্থানীয় সচেতন ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘ সময় এই আসনে স্থানীয় কাউকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে পারেননি তারা। যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই ছিল ভাসমান। তাদের মধ্যে গঙ্গাচড়ার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল না। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ছিল না। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়াতে এই আসনের মানুষ এবার স্থানীয় প্রার্থী থেকেই সংসদে জনপ্রতিনিধি পাঠাতে চান। এ জন্য তারা সব দলের প্রার্থীদের মধ্য থেকে শিক্ষিত, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের নতুন ভোটার মেহেদী হাসান মিল্টন বলেন, আমরা মতো তরুণরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। আমরা পরিবর্তন পক্ষে, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি উন্নয়নের পক্ষে। আমাদের এই আসনে বিগত সময়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমরা তিস্তাপাড়ের মানুষ হিসেবে অনেক বেশি অবহেলিত। এবার এ আসনে তরুণ প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে জুলাইকে ধারণ করে যারা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে পারবে তাদের থেকেই আমরা জনপ্রতিনিধি চাই।

নগরীর ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, ‘হামার দরকার এলাকার ছাওয়াক। যার কাছে গেইলে ঘুরি আইসা নাইগবার নায়। হামরা ভালো প্রার্থীক চাই, যার হামার সুকে-দুকে পাশোত থাকবে, হামার খোঁজখবর নেবে। এলাকার উন্নয়ন করবে। হামার মতো গরীবের জনতে কাজ করবে।’

নতুন ও সচেতন ভোটারদের অনেকই বলছেন, রংপুর-১ আসনের সাথে যুক্ত হওয়া রংপুর নগরীর ১ থেকে ৯টি ওয়ার্ডের সোয়া লাখ ভোটই পাল্টে দিতে ভোটের হিসেব-নিকেশ। এ আসনে বর্তমানে বহাল থাকা ৮ প্রার্থীর ৭ জনই গঙ্গচাড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাস করা একক প্রার্থী আল মামুন।

এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আল মামুন বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য না থাকায় নানানভাবে অবহেলিত এ আসনের জনগণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ইনশাআল্লাহ পুনরুদ্ধার করতে পারবো।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিপি মনোনীতি আল মামুন রংপুর নগরীর বুড়িরহাট কদমতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাতীয় ছাত্র সমাজের পরপর দুইবার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব থেকে সরে আসেন। আল মামুন বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক। গত বছরের ২ ডিসেম্বর আল মামুনকে আহ্বায়ক ও এরশাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে রংপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

তরুণ এই প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সম্মুখভাগে থেকে সরকার পতনের আন্দোলন করেছেন।

আন্দোলনের সময় মাইক হাতে আল মামুনের কন্ঠে ‘আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’ স্লোগানে মুখরিত ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। আল মামুনের এই সাহসী ভূমিকার মূল্যায়ন হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রংপুরের আহ্বায়কের দায়িত্ব অর্পণের পর তাকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ আসন। এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ সাল থেকে এ আসনে একক আধিপত্যের দাপটে দুর্গ গড়ে তুললেও সর্বশেষ ২০২৪ এর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু।

এবার এই আসনে এনসিপির আল মামুন ছাড়াও মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মোকাররম হোসেন সুজন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফ খান সজিব।

রংপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এ আসনের মোট ভোটারের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৫ জন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে