দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের সামনে একে একে জড়ো হয় ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল। দরজা ভেঙে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে। মুহূর্তেই আবার দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং এলোমেলোভাবে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। জনমনে বাসা বাধে নানান প্রশ্নের। এবার জানা গেল এর আসল ঘটনা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসির বাড়িতে হানা দেয় একদল ডাকাত। এ সময় ধারালো রামদা হাতে নিয়ে তার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মুখোশধারী ডাকাতরা। টের পেয়ে তাদের প্রতিরোধ করে প্রবাসী রাজা মিয়া। চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে পরিবারের লোকজন। এই প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় ডাকাতরা। পালিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। বোমার আওয়াজে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের।

এই ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রাজা মিয়া। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

ভুক্তভোগী মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসি জানান, আমার বসতঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে ডাকাতরা। পরে ব্যর্থ হয়ে সামনের দরজা ভাঙার সময় টের পাই। এ সময় প্রস্তুতি নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করি এবং ভয়ে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। পরে বাধার মুখে তারা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে চেহারা না বোঝা যাওয়ায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের ধরতে প্রযুক্তিগত কাজ করা হচ্ছে।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/এএমকে