কোরবানির পশু নির্ধারিত স্থানে জবাই করতে রংপুর মহানগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। একই সঙ্গে ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করে পরিচ্ছন নগরী উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ১১৭টি স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলো ছাড়া যাতে কেউ উন্মুক্ত স্থান ও সড়কের ওপর পশু জবাই না করেন, এজন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে।

তিনি আরও বলেন,‌ ‌রসিকের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির জন্য পানির সরবরাহ, সেবাপ্রাপ্তির সুব্যবস্থা, কোরবানির জন্য ঈমাম ও মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ-মাদরাসার হুজুরদের পাশাপাশি গোশত কাটাকাটির জন্য কসাই রাখা হয়েছে। কোরবানির পর বর্জ্যের দুর্গন্ধ রোধে ব্লিচিং পাউডারের ব্যবস্থা রাখা হবে। আমরা চাই নগরবাসী যততত্র জবাই না করে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করুক।

শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল, কেডি ক্যানেলসহ নগরীর ড্রেনে পশুর বর্জ্য না ফেলার আহ্বানও জানিয়ে রসিক মেয়র বলেন, ‌‌কোরবানির পশুর যে বর্জ্য অপসারণ করে আমরা তা সঠিক জায়গায় ডাম্পিং করতে চাই। এ জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের প্রতি আহ্বান যেখানে সেখানে পশুর বর্জ্য না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন।

এদিকে রসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাবুবার রহমান মঞ্জু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঈদের দিন কোরবানির পশুর ২০০ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ২টার দিকে নগরীর শাপলা চত্বর থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র। আশা করা হচ্ছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে।

রসিকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগ কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সিটির ১০৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তিনটি জোনে বিভক্ত হয়ে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করবে। এতে ১২০টি ট্রলি ও রিকশাভ্যান এবং ২৯টি ট্রাক ব্যবহার করা হবে।

পশুর বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ০১৭১৮৫৪৩১৫৭, ০১৭২৭৮৯৮১৯০, ০১৭২৩৮০৭৩৪৪, ০১৭৩৩৩৯০১৫০, ০১৭১৪৫৬৬৩৮৩ নম্বরে যোগাযোগ করে নগরবাসী কন্ট্রোল রুমের সহায়তা নিতে পারবেন।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএসআর