আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে নতুন এসএমই উদ্যোক্তাদের কর অবকাশ, ট্যাক্স, ভ্যাট ও আমদানি পণ্যে শুল্ক কমানো এবং রফতানি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। 

একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ঋণের কিস্তিতে বিশেষ ছাড় দেওয়াসহ স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিতে নতুন করে আরও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেটকে সামনে রেখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ৬৮টি প্রস্তাব দিয়েছে। এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে ৬৩টি প্রস্তাব, যার মধ্যে কাস্টমস সংক্রান্ত ৩১টি, মূসক সংক্রান্ত ১১টি এবং আয়কর সংক্রান্ত ২১টি প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও নগদ সহায়তা বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ৫টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. মফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আর দুদিন পরই জাতীয় বাজেট আসছে। এসএমই আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে আসন্ন বাজেট হবে এসএমইবান্ধব বাজেট- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাচ্ছি এসএমই উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসএমই খাত। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা যেন আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, এজন্য বিভিন্ন নীতিগত সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাদের ঋণের কিস্তিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে আরও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা জরুরি। সেখান থেকে সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে বা নামমাত্র সুদে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তাব দিয়েছি। এখন দেখার বিষয় বাজেটে কী থাকছে। আমাদের প্রত্যাশা, বাজেট এসএমইবান্ধব হবে।  

এদিকে, প্রাক-বাজেট সভায় এসএমই ফাউন্ডেশনের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো সর্বোচ্চ বিবেচনা করা হবে বলে জানান এনবিআর এর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি জানান, প্রকৃত এসএমইরা যেন সুবিধা পায়, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ হয়েছে। এরইমধ্যে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তারা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এ ঋণ বিতরণে এসএমই ফাউন্ডেশনে ইতোমধ্যে ১১টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং আরও ১০ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন। মোট ঋণের ২৫-৩০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীয় নির্দেশনায় গত বছরের ১৩ এপ্রিল ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হিসাব করা হলেও ঋণগ্রহীতাদের দিতে হবে গড়ে অর্ধেক সুদ। বাকি অর্ধেক সুদের অর্থ ভর্তুকি আকারে ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দেবে সরকার।

জানা গেছে, সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কম। ফলে বারবার সময় বাড়ানোর পরও এ খাতের বিশেষ প্যাকেজের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পড়ে আছে।

এসআই/আরএইচ