গত ডিসেম্বর মাসে দেশের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১২০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তি শক্তিশালী কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ তুলে নিয়েছেন তারা। 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিপরীতে তাদের শেয়ার কেনার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ লাখ টাকা। ফলে মাস শেষে বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের নিট ঘাটতি দেখা যায়।

বিদেশি বিনিয়োগ কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টে। গত নভেম্বর মাসে যেখানে কোম্পানিটিতে বিদেশি মালিকানা ছিল ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ডিসেম্বর শেষে তা নেমে আসে মাত্র শূন্য দশমিক ০১ শতাংশে। এতে করে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে।

এছাড়া সিটি ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। গ্রামীণফোনে বিদেশি অংশীদারত্ব কমে শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে, ফলে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ কমেছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় শেয়ার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালেও বিনিয়োগ কমেছে। ডিসেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশি মালিকানা নেমে আসে ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশে, এতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ কমে যায়।

এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, রেনাটা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও যমুনা অয়েলেও বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে। তবে প্রাইম ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল ব্যাংকে বিদেশি মালিকানা সামান্য বেড়েছে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৩৬০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ রয়েছে।

বিদেশি মালিকানার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংকটির ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। এরপর অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে ৩২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজারে যে বিদেশি বিনিয়োগ দেখা যায়, তার একটি বড় অংশই আসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে। এর বাইরে নরওয়ের সার্বভৌম তহবিলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী।

এমএমএইচ/এমএন