শরীয়াহ পদ্ধতিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। এজন্য ১০ বছর মেয়াদি সুকুক বা ইসলামী বন্ড ছাড়ছে। এটি নতুন গঠিত এই ব্যাংকের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো বিনিয়োগ, যেখান থেকে বছরে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবে।

‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ নামে এই সুকুকের মেয়াদ হবে ১০ বছর। এটি নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো বিনিয়োগ। ব্যাংকটি এই বিনিয়োগ থেকে বছরে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর আগে ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে গঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি দুটি সভা করে। এসব সভায় ইজারা পদ্ধতিতে এই সুকুক ইস্যুর বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হন।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মিত সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন সেবা এই সুকুকের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ নামের সুকুকটি প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে সরাসরি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। আগামী ১৪ জানুয়ারি সরকার ব্যাংকটির কাছ থেকে এই ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রহণ করবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন উন্নয়ন প্রকল্পে বড়ো অঙ্কের অর্থ পাবে, অন্যদিকে সুদবিহীন বা ইসলামী পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে এটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্যও একটি নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে ডজনখানেক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ তুলে নেয়। এসব অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির চাপেই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পড়ে। এরমধ্যে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড়ো অংশ এরইমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়ে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালন খরচ কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

এসআই/জেডএস