বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের কাস্টমস সদস্য (শুল্ক নীতি) মাসুদ সাদিক। এ সময় এনবিআর সদস্য (ভ্যাট নীতি) জাকিয়া সুলতানা ও সদস্য (আয়কর নীতি) সামস উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিপিএমসিএ নেতারা বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে ২০১০ সনের পর হতে ১৫ শতাংশ আয়কর দিতে হয়। এ আয়কর মওকুফ করার জন্য প্রস্তাব করা হলো। 

দেশে মেধাবী ও দরিদ্র প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বিনামূল্যে ডাক্তার তৈরি করছে। মানবিক এ দিক বিবেচনায় কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ক্রান্তিকালে ১৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবলমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতলকে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু পণ্য আমদানি করার ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ট্যাক্স, এআইটিসহ মোট ৩৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হয়। জরুরি মানবিক স্বাস্থ্য সেবা বিবেচনায় এ কর শূন্য হার করার জন্য সুপারিশ করেছে বিপিএমসিএ। 

এছাড়া ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটরে শূন্য শুল্ক আরোপ করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গরিব রোগীরা অতি স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা পাবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পারসনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), যন্ত্রপাতি ও এ্যাম্বুলেন্স সরাসরি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক মওকুফ এবং করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউর অ্যানেসথেসিয়া ভেন্টিলেটরসহ কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষার যন্ত্রপাতি সরাসরি আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স রেয়াতের সুপারিশও করেছে বিপিএমসিএ।

এছাড়াও দেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক বাজেট প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। 

আরএম/আরএইচ