মহামারির মধ্যেও দেশের বিত্তশালীদের আয় কমেনি। ফলে নানা সংকটের মধ্যেও দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। বাড়ছে ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৮৯০টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২০ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারী হিসাবের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬টি। এর মধ্যে কোটি টাকার উপরে রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশই কোটিপতিদের দখলে। 

ব্যাংকে কোটি টাকার উপরে রয়েছে- এমন হিসাবধারী গ্রাহকের আমানতের মোট পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতিদের হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৪০০টি। সেপ্টেম্বরে মোট আমানত জমা ছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি হিসাব ছিল ৮৩ হাজার ৮৩৯টি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে ১০ হাজার ৫১টি।

কোটিপতিদের আমানত বেড়ে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তার মতে এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোটিপতি যাদের সম্পদ অনেক, তাদের আয়ও বেশি। মহামারিতে তাদের ইনকাম কমেনি। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলো খুব লসে নেই। কোভিডে বড়লোক শ্রেণির মানুষের আয় কমেনি বরং ব্যয় কমেছে। কারণ আগে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যেত, অনেক পার্টির আয়োজন করতো এসব এখন পরিস্থিতির কারণে বন্ধ রয়েছে তাই খরচ কমেছে। এছাড়া তারা আপদকালীন সময়ের জন্য ব্যাংকে টাকা রাখছেন। যেন কোনো সমস্যা হলে খরচ করতে পারেন। পাশাপাশি মহামারির কারণে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় মানুষ ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন। এসব কারণে কোটি টাকার আমানত বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারী হিসাবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৩ হাজার ৮৭৫টি। পাঁচ কোটি এক টাকা থেকে ১০ কোটির মধ্যে ১০ হাজার ৪৭২, ১০ কোটি এক টাকা থেকে ১৫ কোটির মধ্যে তিন হাজার ৫০৭, ১৫ কোটি এক টাকা থেকে ২০ কোটির মধ্যে এক হাজার ৬৩২, ২০ কোটি এক টাকা থেকে ২৫ কোটির মধ্যে এক হাজার ১৩৩, ২৫ কোটি এক টাকা থেকে ৩০ কোটির মধ্যে ৭২৫, ৩০ কোটি এক টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮৪ এবং ৩৫ কোটি এক টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকার মধ্যে ২৯৪টি আমানতকারী হিসাব রয়েছে।

৪০ কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৪৭৮টি। আলোচিত সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৩৯০টিতে দাঁড়িয়েছে, ২০১৯ সালে যা ছিল এক হাজার ২৮৩টি। অর্থাৎ এক বছরে ৫০ কোটি টাকার বেশি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ১০৭টি।

এসআই/আরএইচ/জেএস