কলকাতার মডেল-অভিনেত্রী বিদিশা দে মজুমদারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (২৫ মে) তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

এরই মধ্যে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। বিদিশার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা জানাচ্ছেন, প্রেমিক অনুভবের সঙ্গে সম্পর্কজনিত অশান্তির কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। এ কারণেই নাকি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এদিকে আত্মহত্যার আগে বান্ধবী দিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে কিছু মেসেজ দিয়েছিলেন বিদিশা। ওই মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এসেছে। রাত ১টার দিকে দেওয়া সেই মেসেজে বিদিশা লিখেছিলেন, ‘আমি বাঁচতে পারব না অনুভবকে ছাড়া। আমি শুধু ওকে চাইতাম। কোনো কারণে আমার কিছু হয়ে গেলে ওকে বলিস, খুব ভালবাসতাম। ওকে কারও সঙ্গে দেখতে পারতাম না। আমার মা, বাবার থেকেও ওকে অনেক বেশি ভালবাসতাম।’

দিয়া দাস নিজেও গণমাধ্যমকে বিষয়টি বলেছেন। তার ভাষ্য, “বিদিশা আমাকে অনেকদিন ধরেই বলত, ও ছেলেটাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না। কিন্তু ছেলেটার অনেক বান্ধবী রয়েছে। বিদিশার আত্মহত্যার পর, আমি ছেলেটাকে ফোন করি। ওকে বলি, ‘তুমি কি আসবে না অনুভবদা?’ ও তখন বলে, ‘না, আমি এত দূর থেকে যেতে পারব না।’ আমি বলি, ‘আমরা নৈহাটি, টালিগঞ্জ, নিউটাউন থেকে চলে আসছি। তুমি যেতে পারবে না?’ ও উত্তর দেয়, ‘না।’ আমি তখন ওকে জিজ্ঞাসা করি, ‘তুমি ওকে ভালোবাসতে না?’ তখন ও বলে, ‘আমি তো ওকে কোনও দিন বলিনি, আই লাভ ইউ।’ আমি ফোনে পাল্টা জিজ্ঞাসা করি, ‘আই লাভ ইউ না হয় বলোনি, কিন্তু একসঙ্গে তো রাত কাটাতে।’ ও তখন বলে, ‘আমি তো জোর করে কিছু করিনি। বিদিশাও আমার সঙ্গে করেছে।’ এগুলো কোনও কথা হলো! অথচ ছেলেটা ওকে বলত, আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু কোনও দিন বিয়ে করতে পারব না।’’

জানা গেছে, অনুভবের সঙ্গে বিদিশার সম্পর্ক মোটে চার-পাঁচ মাসের। ফেসবুকেই তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সেটা গভীর হয়। তবে বিদিশার পাশাপাশি আরও অনেক মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে অনুভবের। এটা মেনে নিতে পারেননি অভিনেত্রী।

তবে অনুভব বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিদিশার শুধুমাত্র বন্ধুতার সম্পর্ক ছিল। ও আমাকে অনেকবারই বলেছিল সম্পর্ক তৈরি করার কথা। কিন্তু আমি ওকে বলি, কোনও সম্পর্কে জড়াতে পারব না। আমি যতটা পেরেছি ওকে মানসিকভাবে শক্তি জোগানোর চেষ্টা করেছি। ও ডিপ্রেশনে ভুগছিল। কাজ পাচ্ছিল না। সেটা আমাকে বলেছিল। ও বলত, ‘আমি কাজ পাচ্ছি না। আমি আর বাঁচব না।’ আমি বলেছিলাম, ‘চেষ্টা করো, আজ না হয় কাল ঠিক হবে।’ এ সব কারণে হতাশ ছিল। ও যতবার সম্পর্ক তৈরির কথা আমাকে বলেছিল, ততবারই আমি না বলেছি।’’

অনুভব আরও জানিয়েছেন, তিনি পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিদিশার মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিও করেছেন তিনি।

কেআই