সঙ্ঘশ্রী সিনহা। টালিপাড়ার পরিচিত মুখ। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ, সিরিয়ালে তাকে দেখতে অভ্যস্ত দর্শক। পর্দায় তাকে দর্শক যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, তার বাস্তব জীবনের গল্পটা কিন্তু এতোটাও সহজ ছিল না। জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে তিনি কথা বলেছেন টিভি চ্যানেলে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে প্রেম, বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন।

বর রোহন মিত্রকে পাশে নিয়ে বসেছিলেন সঙ্ঘশ্রী। কথায় কথায় সঞ্চালক অপরাজিতাকে বললেন, ‘আমার প্রেমিক আমাকে ঠকিয়ে আমার সামনে দিয়ে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দুঃখ আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। আমার বাড়ির সামনে দিয়ে ওড়না উড়িয়ে যাচ্ছে… আমি ঠিক করলাম ওকে দেখিয়ে দেব বিয়ে করতে পারি কি না!’

সঙ্ঘশ্রী বললেন, ‘এবার বিয়ে করতেই জ্ঞান ফিরেছে। এবার তো আর রিভার্স কোনও গিয়ার নেই।’ পাশে বসে থাকা অভিনেত্রীর মা বলে ওঠেন, ‘তাও বিয়ের আগেরদিন বলেছে, মা আমি বিয়ে করব না।’

রোহনের সামনেই বিবাহিত জীবনের গল্প ভাগ করে নেন সঙ্ঘশ্রী। ‘বিয়ের পরদিনই বরকে বলছি, আমি বাড়ি যাব।’ পাশ থেকে বর বলে ওঠেন, ‘আমি বলেছিলাম ঠিক আছে। এত আয়োজন হয়ে গেছে। বউভাতটা হলে চলে যাবে।’

সঙ্ঘশ্রী জানান, এখনও ঝগড়া হলেই বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। আর রোহনও তাকে আটকায় একইভাবে, ‘এবার না মিটলে সত্যি সত্যি চলে যেও…’

এর আগে একটি শোতে এই অভিনেত্রীকে বলতে শোনা গেছে, ক্যারিয়ারের শুরুতে কত কষ্ট করেছে তিনি। সংসার চালাতে সকালে করতেন সিনেমার কাজ, আর রাতে সেলাই। সঙ্ঘশ্রী অপরাজিতাকে জানান, ‘অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টরের কাজ করতাম, তারপর রাতে সেলাই করতাম।’

২০১৭ সালে রোহন মিত্রকে বিয়ে করেন তিনি। তবে তার আগে দীর্ঘ ১১ বছর একটি ‘বিষাক্ত’ সম্পর্কে ছিলেন। মারধর করত সেই ছেলেটি। সংঘশ্রীর কথায়, ‘যে তোমাকে একদিন অপদস্থ করছে, যে তোমাকে রোজ অপদস্থ করবে। যে একদিন গায়ে হাত তুলছে সে রোজ হাত তুলবে। আমরা ভাবি ভুল করে করে ফেলেছে, কিন্তু সেটা ভুল করে হয় না। ওটা স্বভাব। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আমার ভুল। আমি ১১ বছর এই বিষাক্ত সম্পর্কটায় ছিলাম। এরপর অনেক কষ্টে সেটা থেকে বের হয়েছি’।

সঙ্ঘশ্রী জানান, বাড়ির থেকে সম্বন্ধ দেখে বিয়ে দেওয়া হয় রোহনের সঙ্গে। তবে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজই এখন পরিণত হয়েছে লাভ ম্যারেজে। এখন বেশ সুখে শান্তিতেই আছেন তারা।

পিএইচ