রাতারাতি নিজেদের থাকার বাংলো ছেড়েছিলেন ‘দেশি গার্ল খ্যাত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া’। লস অ্যাঞ্জেলসের বিলাসবহুল সেই ম্যানসনের দামই ছিল প্রায় দুই কোটি ডলার। কী এমন হয়েছিল যে রাতারাতি স্বামী নিক জোনাসকে নিয়ে বাংলো ছাড়তে হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার। সেই খবর নিয়ে বেশ হইচই হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এখন প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, সেই বাংলোকেই মেরামত করে নতুন করে সাজিয়ে এক রাজপ্রাসাদ তৈরি করিয়েছেন তারা। মেয়ে মালতীকে নিয়ে সেই ম্যানসনেই এবার থেকে থাকবেন তারা।

বাংলো পুননির্মাণ করতে ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন এ দম্পতি। যেমন তার অন্দরসজ্জা, তেমনই প্রাসাদের চারপাশের প্রকৃতি। সবুজে ঘেরা। সম্প্রতি এই প্রাসাদেই দীপাবলি সেলিব্রেশনের ছবি পোস্ট করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজস্থানে রাজকীয় বিয়ে সেরেই লস অ্যাঞ্জেলসের ওই বিলাসবহুল বাংলো কিনেছিলেন নিক-প্রিয়াঙ্কা। সেই বাংলোর ছবি বহুবার তিনি পোস্ট করেছিলেন নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। গোটা বাড়ির দেওয়াল সাদা নয়তো হালকা ক্রিম রঙের। বসার ঘরে তার সঙ্গে মেলানো ক্রিম রঙেরই সোফা। সঙ্গে কাঠের কফি টেবিল। পাথরের দেওয়াল। আর হালকা হলুদ আলো। বাড়িতে ৭টা বেডরুম ও ১১টা বাথরুম ছিল। আর ছিল বিশাল বাগান, সুইমিং পুল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, ওই বাংলোয় থাকতে শুরু করার মাস কয়েকের মধ্যেই নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে। থাকার অযোগ্য হয়ে ওঠে গোটা বাংলো।

একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছিলেন, শুরু থেকেই বাড়িতে পানির সমস্যা ছিল। যা নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে একাধিকবার কথাও হয়েছিল তাদের। পানি লিক হয়ে যাওয়া, পানি জমে যাওয়ার কারণে সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়ির অন্দরমহলের সাজসজ্জাও নষ্ট হতে বসেছিল। কোথাও পানি চুইয়ে পড়ছিল। সুইমিং পুলের পাশ থেকে পানি লিকেজ হচ্ছিল। যে মালিক লস অ্যাঞ্জেলসের ওই বাংলো নিক-প্রিয়াঙ্কাকে বিক্রি করেছিলেন তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন জোনাস দম্পতি। বাধ্য হয়েই গত ফেব্রুয়ারি মাসে লস অ্যাঞ্জেলসের সেই বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে অন্যত্র চলে যান নিক-প্রিয়াঙ্কা।

তবে বাংলোটি পুনর্নিমাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। তারকা দম্পতি জানিয়েছেন, বাড়িটির পুনর্নিমাণের কাজ শেষ। এখন সেই বাংলোই রাজপ্রাসাদের মতো সুন্দর ও বিলাসবহুল।

জানা যায়, ২০ হাজার বর্গফুটের প্রাসাদে রয়েছে সাতটা বেডরুম, ১১ টা বাথরুম। পোষ্যদের জন্য ঘর ও বাথরুম আলাদা। বাড়ির পেছন দিকে বিশাল সুইমিং পুল, বারবিকিউ প্লেস। পুলের লাগোয়া বিশাল বসার জায়গা। এছাড়া বাড়িতে নিজস্ব জিমও আছে। নিকের জন্য আলাদা ঘর তো রয়েছেই। নাম নিকস ডেন। গায়ক নিক এখানে তার গানবাজনা নিয়ে থাকেন। এই ঘরেই রয়েছে বিশাল হোম থিয়েটার। আছে বার, লাইব্রেরি। প্রতি ঘরেই বিশাল বিশাল জানালা আর কাচের স্লাইডিং ডোর। এমনভাবে ঘরগুলো তৈরি যেন ঘরে বসেই পাহাড় ও গাছপালা দেখা যায়।

এমজে