‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’
যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে সেই ফিলিস্তিনি শিশুর আকুতি
গাজায় চালানো ইসরায়েলি বর্বরতায় নিহত পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রাজাবের মর্মান্তিক ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’। এবার আলোচিত সেই সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি, গাজায় হামলার সময় পরিবারের সঙ্গে প্রাণে বাঁচতে হামলার মুখে পড়ে ছোট্ট হিন্দ রাজাব। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আরও ছয় সদস্য। হামলার পর আহত অবস্থায় হিন্দ ফোনে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জরুরি সেবায় বারবার সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করে। সেই ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা, প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনাই ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ হয়ে এসেছে পর্দায়। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তিউনিশীয় নির্মাতা কাউথার বেন হানিয়া। ছবিতে বাস্তব হিন্দ রাজাবের কণ্ঠের সঙ্গে নাট্যরূপে অভিনয় মিলিয়ে তার সাহায্যের আকুতিকে তুলে ধরা হয়েছে। কাহিনির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ওয়েস্ট ব্যাংকে অবস্থিত রেড ক্রিসেন্টের কল সেন্টারের ভেতরের দৃশ্য।
৯০ মিনিটের এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, রাজাবকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্তও আশা ছাড়েনি কেউ। অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো নিয়ে নিয়ম-কানুন থেকে শুরু করে ঝুঁকি নিয়ে নানা বিতর্ক দেখানো হয়। গল্প এগোতে এগোতে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, আর শিশুকণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমাকে ছেড়ে যাবেন না, আমি অন্ধকারে ভয় পাই।’
বিজ্ঞাপন
বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে, উদ্ধার কর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে হিন্দকে লাইনে রাখেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছায়। প্যারামেডিকরা জানান, তারা জরুরি বাতি জ্বালিয়ে এগোচ্ছেন, তবে সাইরেন বাজানো হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারী গুলির শব্দ শোনা যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই দুই প্যারামেডিকও নিহত হন। হামলার ১২ দিন পর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স থেকে মোট নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা নিয়েই নির্মিত সিনেমায় ছবিতে ওমর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফিলিস্তিনি অভিনেতা মোতাজ মালহিস। অস্কারের দৌড়ে থাকা এই সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন হলিউড সুপারস্টার ব্র্যাড পিট ও জোয়াকিন ফিনিক্স। গত বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ২৩ মিনিটের রেকর্ড ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ এবং গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ জিতে আলোচনার কেন্দ্রে আসে এই ছবিটি।
‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ আগামী ১৬ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
ডিএ