স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়েই আলোচনায় আসেন নির্মাতা ভিকি জাহেদ। কয়েক বছর আগে দেশে স্বল্পদৈর্ঘ্যের যে জোয়ার এসেছিল, তার মূল কাণ্ডারি ছিলেন তিনিই। একের পর এক ভিন্নধর্মী শর্টফিল্ম বানিয়ে দর্শকদের মনে আস্থা তৈরি করেন। সেই আস্থার ওপর ভর করে ভিকি আসেন নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণে। এখানেও তার সাফল্য উল্লেখযোগ্য।

এ পর্যন্ত ভিকি যতগুলো নাটক বা টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছেন, প্রায় সবগুলোই হয়েছে প্রশংসিত। গত রোজার ঈদে তার নির্মিত ‘চরের মাস্টার’ ছিল আলোচনার প্রথম সারিতে। এছাড়া ‘ছন্দপতন’, ‘মাজনু’ ও ‘ভুলজন্ম’ ইত্যাদি ফিকশন দিয়েও দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।

কিছুটা বিরতির পর আবারও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন ভিকি। এর নাম ‘লাল কাতান নীল ডাকাত’। রচনা করেছেন নাজিম উদ দৌলা। প্রচারের অপেক্ষায় থাকা ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকি-তে মুক্তি পাবে এটি। খবরটি ঢাকা পোস্ট-কে নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা নিজেই।

ভিকি জাহেদ বলেন, মূলত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কাজটি করেছি। এখানে বাস ডাকাতির একটা ঘটনা উঠে আসবে। আমাদের দেশে মাঝেমধ্যেই এমন ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে উৎসবের সময়ে যখন মানুষ শহর থেকে বাড়ি ফেরে, তখন ডাকাতের প্রকোপ বেড়ে যায়। ভিন্ন আঙ্গিকে সেই বিষয়টাকেই তুলে ধরেছি এখানে।

২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই শর্টফিল্মের কেন্দ্রীয় তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, মনোজ প্রামাণিক ও নাসির উদ্দিন খান। এর মাধ্যমে প্রথমবার ভিকির নির্মিত ফিকশনে কাজ করেছেন বাবু। আগে অবশ্য তারা একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন।

ভিকি বলেন, বাবু ভাইকে তো বেশিরভাগ কাজে ভেঙে পড়া, অসহায়, দুখী চরিত্রে দেখানো হয়। কিন্তু এখানে তিনি একজন ডাকাতের ভূমিকায় আছেন। তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আমার বিশ্বাস, দর্শকরা এখানে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হবেন। নাসির উদ্দিন এবং মনোজ প্রামাণিকও দারুণ অভিনয় করেছেন।

শুটিংয়ের গল্প জানিয়ে ভিকি বলেন, আমরা ঢাকা নবাবগঞ্জ রুটে শুটিং করেছি। এর আগে ‘আজ আমার পালা’ শর্টফিল্মে বাসের ভেতর গল্প বলেছি। এবারও তেমনই। তবে গল্প আর চিত্রায়ণের কৌশলে আছে চমক।

এদিকে চরকি প্ল্যাটফর্মটি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে আগামী ১২ জুলাই। প্রতিষ্ঠানটি ১২ মাসে ১২টি ওয়েব ফিল্ম মুক্তি দেবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রথম ফিল্ম হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে ‘মরীচিকা’। আর ভিকি জাহেদের ‘লাল কাতান নীল ডাকাত’ আসবে কোরবানির ঈদে।

কেআই