এসএম কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই নিজ আসনের মানুষের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এলাকার মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তিনি বেশ সক্রিয়। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, আওয়ামী লীগের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে? এসব বিষয়ে ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একান্ত আলাপ করেছেন এসএম কামাল হোসেন।
   
ঢাকা পোস্ট: উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এটা দলের কোনো কৌশল কিনা?

এসএম কামাল হোসেন: এটা কোনো কৌশল না। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল দলীয় মনোনয়নে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হবে। এবার আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে চিন্তা ভাবনা করে নেতারা বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দিলে ভালো হয়। নির্বাচনে উৎসব মুখর পরিবেশ ও আরও অংশগ্রহণমূলক হবে। এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকলেও উন্মুক্তের কারণে উৎসব মুখর এবং অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যারা করবেন তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচন করবেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হবে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, নির্বাচনের পরিবেশ যেন ভালো থাকে, সহিংসতা মুক্ত ভালো নির্বাচনে সহায়তা করা। ভালো নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় এমপিরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।  

ঢাকা পোস্ট: হঠাৎ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন দলীয় প্রতীক থাকছে না?  

এসএম কামাল হোসেন: আমাদের প্রতিটি উপজেলায় ১০ থেকে ১৫ জন করে ভালো প্রার্থী রয়েছে। নৌকা প্রতীক দিলে স্থানীয়ভাবে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়, এতে দলের ভেতরে সংঘাত বেশি হয়। অন্যান্য দল যদি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতো, তাহলে আমরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলে দল আরও ঐক্যবদ্ধ হতো। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো দল যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে না, এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলীয় প্রতীক না দিয়ে, যাদের দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আছে তারা নির্বাচিত হয়ে আসবে। তবে অন্য কোনো দল এলে সেটি পরে বিবেচনা করা হবে।

ঢাকা পোস্ট: দলীয় প্রতীক না থাকলেও এমপিদের আধিপত্য বিস্তারের প্রভাব পড়বে কিনা?

এসএম কামাল হোসেন: প্রত্যেকটা মানুষ কাউকে না কাউকে সমর্থন করবে—মনে মনে। আর এমপিরা তো নির্বাচনে কোনো প্রচারে যেতে পারবে না। ঘরে ডেকে যদি কেউ কাউকে সমর্থন করে সেটা তো দেখার বিষয় না। প্রকাশ্যে স্থানীয় নির্বাচনে এমপিরা কাউকেই সমর্থন দিতে পারবেন না। কারো পক্ষে প্রচার করতে পারবেন না। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে কাউকে না কাউকে পছন্দ থাকতে পারে, এমপিরা মনে মনে পছন্দ করতে পারেন। কিন্তু প্রকাশ্যে তারা কিছু করতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্থাৎ উপজেলা নির্বাচনে আমাদের কারো প্রতি সমর্থন থাকছে না।

ঢাকা পোস্ট: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেটা কিভাবে সমাধান করবেন?  

এসএম কামাল হোসেন: আমরা ঢাকায় নেতাদের সঙ্গে বসে সমাধান করার চেষ্টা করবো। তারপর তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। আগে ঢাকায় ডেকে আলোচনা করে সমাধান করবো। আওয়ামী লীগের গ্রুপিং, প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময় ছিল। এটা শুধু নির্বাচনকে ইস্যু করে নয়। এই প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা জেলা থেকে উপজেলায়। তবে কেন্দ্রে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব আছে, প্রতিযোগিতা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিযোগিতাকে খারাপ মনে করি না। আমি মনে করি, প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে দল আরো গতিশীল হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে যেন নোংরামি না হয় বা সহিংসতা না হয়, এই নির্দেশনা আমাদের নেত্রী দিয়েছেন। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, উপজেলা নির্বাচনের পরে আমরা সিরিয়াসলি মাঠে নামবো, দলকে আবার এক জায়গায় নিয়ে আসবো।



ঢাকা পোস্ট: নতুন সরকারের সামনে কি কি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?  

এসএম কামাল হোসেন: আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা যে কথা বলেছেন- মানুষকে ভালো রাখা, মানুষকে নিরাপদে রাখা, মানুষকে শান্তিতে রাখা, এই কাজটা যদি আমরা করতে পারি, সাধারণ জনগণের বঙ্গবন্ধুর কন্যার প্রতিটি যে আস্থা রয়েছে, ভবিষ্যতে সেই আস্থা থাকবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে ভালো রাখা, শান্তিতে রাখা। মানুষ যেন কষ্ট না পায়, মানুষ যেন আমাদের প্রতি বিরক্ত না হয়, এটাই হচ্ছে মূল কথা।

তিনি আরও বলেন, মানুষের ভালো করাটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। ভালো কাজ করতে গেলে চ্যালেঞ্জ আসবেই। বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা, তবে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। দেশ গঠনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আর্কিটেক্ট হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। গোটা বাংলাদেশ নিয়ে তিনি ভাবেন। তার ভাবনায় আজকে আমরা সুফল পাচ্ছি। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ পার হয়ে এখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  তিনি নিজে চিন্তা করেন, তার চিন্তা ভাবনা ও দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশে আজকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন।

ঢাকা পোস্ট: এখনও দেশে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন কিনা?

এসএম কামাল হোসেন: বিএনপি-জামায়াত সবসময় ষড়যন্ত্র করে, সহিংসতা করার চেষ্টা করে, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে। আল্লাহর রহমতে জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয় না।  তারা নির্বাচন আগে বড় ধরনের সহিংসতা করার চেষ্টা করেছিল। ট্রেনে আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জায়গায় হামলা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি, তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

ঢাকা পোস্ট: দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে?

এসএম কামাল হোসেন: দ্বাদশ নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা যে কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছি, একটা হচ্ছে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স, দ্বিতীয়টা হচ্ছে কর্মসংস্থান তৈরি করা, তৃতীয়টা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা। আরেকটা হচ্ছে সন্ত্রাস ও মাদক বন্ধ করা। এই কাজগুলা করাই এখন আমাদের সরকারের প্রধান কাজ। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশে প্রভাব পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এটাকে কাটিয়ে উঠছে, বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো সংকটে পড়েনি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন যে নতুন মন্ত্রিপরিষদ হয়েছে, তারা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সে ক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে এখানে একটা সিন্ডিকেট আছে, যারা অস্থিস্তিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। এ ব্যাপারে আমাদের নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, দলও এ ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখবে। মন্ত্রণালয়ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এমএসআই/এমএসএ