আকাশ, স্থল ও সমুদ্র— তিনপথেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ শুরু করেছে রাশিয়া। রুশ সৈন্যরা এখন ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের গণতান্ত্রিক এই দেশটির রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থান করছে। প্রতিবেশী ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা গত কয়েক মাস ধরে অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরবর্তীতে একটি শান্তি চুক্তি ছুড়ে ফেলেছেন তিনি এবং উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বদিক থেকে ইউক্রেনজুড়ে সৈন্য মোতায়েন করেছেন।

নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইউরোপের শান্তিও তছনছ করে দিয়েছেন। এখন সেখানে যা ঘটছে তা পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।

ইউক্রেনে আক্রমণ কেন?

রাশিয়ার নেতা নির্দেশ দেওয়ার পর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে পুরো-মাত্রার আগ্রাসন শুরু হয়েছে। এই আগ্রাসন শুরুর চার দিন পর রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানীতে প্রবেশ করেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরের আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ঘোষণা দেন, রাশিয়ার উন্নয়ন ও অস্তিত্ব হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। আর নিরাপদ বোধ করা যাচ্ছে না। কারণ হিসাবে তিনি ‘আধুনিক ইউক্রেন’ ক্রমাগত হুমকি হয়ে উঠছে বলে দাবি করেন।

প্রথমে ইউক্রেনের বিমানবন্দর এবং সামরিক সদরদফতরে হামলা করা হয়। পরে রাশিয়া, রাশিয়ার-দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং মিত্র বেলারুশ থেকে ট্যাংক এবং সৈন্য ইউক্রেনে পাঠানো হয়।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের অনেক যুক্তি ছিল মিথ্যা অথবা অযৌক্তিক। তিনি দাবি করেন, তার সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইউক্রেনের নিপীড়ন ও গণহত্যা থেকে লোকজনকে রক্ষা করা এবং অসামরিকীকরণ ও নাৎসিবাদ হটানো। ইউক্রেনে কোনো গণহত্যা ঘটছে না; এটি উদীয়মান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এর নেতৃত্বে রয়েছেন এমন একজন প্রেসিডেন্ট যিনি ইহুদি।

রাশিয়ার আক্রমণকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির আক্রমণের সাথে তুলনা করে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমি কীভাবে নাৎসি হতে পারি? ইউক্রেনের প্রধান রাব্বি এবং অশভিৎস মেমোরিয়ালও পুতিনের অপবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রায়ই ইউক্রেন চরমপন্থীদের দখলে গেছে বলে অভিযোগ করেন। কয়েক মাসের বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে ২০১৪ সালে রুশপন্থী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এই অভিযোগ করছেন পুতিন। পরবর্তীতে রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলে নেয় এবং পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলন উসকে দেয়। এছাড়াও বিচ্ছিন্নতাবাদী— যারা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের প্রতি সমর্থন জানায় রাশিয়া। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

২০২১ সালের শেষের দিকে ইউক্রেন সীমান্ত ঘেঁষে বিশালসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করতে শুরু করে রাশিয়া। একই সময়ে তারা ইউক্রেনে হামলা করতে যাচ্ছে, এমন অভিযোগও বারবার অস্বীকার করে। পরবর্তীতে পুতিন ২০১৫ সালের একটি শান্তি চুক্তি বাতিল করেন এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের দু’টি অঞ্চলকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইউক্রেনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। আগ্রাসনের ঘোষণা দিয়ে তিনি ন্যাটো ‘তার দেশের ঐতিহাসিক ভবিষ্যৎ হুমকি’ বলে অভিযোগ করেন।

কতদূর যাবে রাশিয়া?

এটা এখন স্পষ্ট যে, ইউক্রেনের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করতে চাইছে রাশিয়া। মস্কোর লক্ষ্য হল ইউক্রেনকে নিপীড়ন থেকে মুক্ত করা এবং নাৎসিদের কবল থেকে উদ্ধার করা। আর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, শত্রুপক্ষ আমাকে এক নম্বর টার্গেট হিসাবে নিশানা করেছে; আমার পরিবার রয়েছে দুই নম্বর টার্গেটে।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দ্বীপ দখলে নেওয়ার সময়কার একটি মিথ্যা আখ্যান ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত টিভিতে নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। এতে যারা বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী অপরাধ করছেন, তাদের আদালতের দ্বারস্থ করা হবে বলে পুতিনকে বলতে শোনা যায়।

ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়ার পরিকল্পনা কী, সেটি অজানা। তবে দেশটিতে অত্যন্ত বৈরী জনগোষ্ঠীর তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছে রাশিয়া।

গত জানুয়ারিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন সরকারের নেতৃত্বে মস্কোপন্থী পুতুল বসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিল যুক্তরাজ্য। যদিও সেই সময় এই দাবিকে অর্থহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল রাশিয়া। অসমর্থিত এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাশিয়া প্রতিবেশী দেশটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করতে চায় বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আগ্রাসনের আগের দিনগুলোতে, যখন ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে রাশিয়া ২ লাখের বেশি সৈন্য সমাবেশ করে, তখন রাশিয়ার জনসাধারণের মনোযোগ পুরোপুরি লুহানস্ক এবং দনেৎস্কের পূর্বাঞ্চলের দিকে ছিল।

রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এই দুই এলাকা স্বাধীন ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট পুতিন বিশ্বকে বলেন, এই দুই অঞ্চল আর ইউক্রেনের অংশ নয়। পরে তিনি জানান, ইউক্রেনীয় অন্যান্য ভূখণ্ডের স্বাধীনতার দাবির প্রতি তার সমর্থন রয়েছে।

স্ব-শাসিত গণপ্রজাতন্ত্রগুলো পুরো ইউক্রেনের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশের বেশি অংশের সমান হলেও বিদ্রোহীরা বাকি অংশেরও আশা করে।

ইউরোপের জন্য এই আগ্রাসন কতটা বিপজ্জনক?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো একটি বড় শক্তি ইউরোপীয় এক প্রতিবেশীকে আক্রমণ করছে; এটি ইউক্রেনের জনগণের জন্য ভয়ঙ্কর এবং উপমহাদেশের জন্যও।

জার্মানি এই আক্রমণকে ‌‘পুতিনের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে। যে যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েকশ’ মানুষ মারা গেছেন— যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং সৈন্যও রয়েছেন। ইউরোপের নেতাদের জন্য এই আক্রমণ ১৯৪০’র দশকের পর ‘কিছু অন্ধকার সময়’ নিয়ে এসেছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘ইউরোপের ইতিহাসের বাঁক বদল’ বলেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ ‘পুতিন একটি রাশিয়ান সাম্রাজ্য চান’ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ু যুদ্ধের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সভ্য বিশ্ব থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে একটি নতুন লোহার পর্দা এড়াতে ইউক্রেন লড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এমনকি পুতিন তার দেশের পারমাণবিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের জন্য সামনের দিনগুলো উদ্বেগজনক হবে, সেটি এখন বলাই যায়। ইউক্রেনীয়রা ইতোমধ্যে রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আট বছরের এক ভয়াবহ যুদ্ধের শিকার হয়েছেন। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সক্ষম সব নাগরিককে দেশটির সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

এটি এমন কোনো যুদ্ধ নয়; যার জন্য রাশিয়ার জনগণ প্রস্তুত ছিল। কারণ ইউক্রেনে এই হামলা রাশিয়ার পার্লামেন্টের বহুলাংশে প্রতিনিধিত্বহীন উচ্চকক্ষে অনুমোদন পেয়েছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিবেশী অন্য অনেক দেশের ওপর এই আগ্রাসনের প্রভাব পড়েছে। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, মলদোভা এবং স্লোভাকিয়া ইতোমধ্যে বিশাল শরণার্থীর ঢল দেখেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

পশ্চিমারা কী করতে পারে?
 
প্রতিরক্ষামূলক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো পরিষ্কার করে বলেছে, ইউক্রেনে তাদের সৈন্য পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র এবং ফিল্ড হাসপাতাল পাঠিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন অস্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের পর পাঠাচ্ছে।

বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এবং পোল্যান্ডে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে ন্যাটো। প্রথমবারের মতো পশ্চিমা এই সামরিক জোট তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সমর শক্তির বড় অংশকে সক্রিয় করেছে। কোন দেশে এই বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে সে বিষয়ে ন্যাটো কিছু জানায়নি। তবে কেউ কেউ রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার কথা বলেছেন।

একই সময়ে পশ্চিমারা রাশিয়ার অর্থনীতি, আর্থিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

• ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং কানাডা আন্তর্জাতিক সুইফ্ট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়ার প্রধান প্রধান ব্যাংকগুলোকে বিচ্ছিন্ন করছে। 

• ইইউ, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা রাশিয়ার বিমানসংস্থাগুলোর জন্য আকাশপথ বন্ধ করেছে।

• যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং যুক্তরাজ্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সংসদের ৩৫১ সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

• রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইনের অনুমোদন স্থগিত করেছে জার্মানি। এই পাইপলাইনে রাশিয়া এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিশাল বিনিয়োগ আছে।

• রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক এবং রাশিয়া টুডের সম্প্রচার ইউরোপজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ দুই সংবাদমাধ্যমকে ক্রেমলিনের মুখপত্র হিসেবে দেখা হয়।

• রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল আর আয়োজন করতে পারবে না।

পুতিন কী চান?

তিনি কেবলমাত্র ইউক্রেন কখনই ন্যাটোতে যোগদান করতে পারবে না বলেই দাবি জানাননি, বরং এই জোটকে তাদের ঘড়ির কাঁটা পেছনে অর্থাৎ ১৯৯৭ সালের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ইউরোপের পূর্বাঞ্চলমুখী কোনো সম্প্রসারণ চলবে না দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা (পশ্চিমারা) কি মনে করে যে, আমরা শুধু বসেই থাকব?

১৯৯৭ সালের পর থেকে যেসব দেশ ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, সেসব দেশকে ন্যাটোর বাহিনী এবং সামরিক স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন পুতিন। এমনকি রাশিয়ার সীমান্তের কাছে হামলা চালাতে সক্ষম এমন অস্ত্রও মোতায়েন করা যাবে না বলে দাবি তুলেছেন তিনি। এর অর্থ— মধ্য ইউরোপ, পূর্ব ইউরোপ এবং বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর কার্যক্রমে লাগাম টানতে হবে।

যদিও ন্যাটো এই পথে হাঁটছে না। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজের ভাষায়, রুশ নেতা ‘তার বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ইউরোপ দখল করতে চান।’

গত বছর লেখা দীর্ঘ এক নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয়দের ‘এক জাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সেই লেখায় তিনি ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ‘রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিচ্ছিন্নতা’ বলে অভিহিত করেন।

আধুনিক ইউক্রেন পুরোপুরি কমিউনিস্ট রাশিয়ার তৈরি এবং এখন সেটি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ২০১৩ সালে ইইউর সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। আর তার এই চাপ দেশটিতে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জন্ম দেয়; যা শেষ পর্যন্ত ক্রেমলিনপন্থি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের দৃষ্টিতে ১৯৯০ সালে পশ্চিমারা পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো জোটের এক ইঞ্চিও সম্প্রসারণ ঘটাবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটি থেকে সরে গেছে। এই প্রতিশ্রুতি করা হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে। তবে তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের প্রেক্ষাপটে পূর্ব জার্মানির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গর্বাচেভ বলেছিলেন, ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টি সে সময় আলোচনাই করা হয়নি।

ন্যাটো কী বলেছে?

ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক জোট; নতুন সদস্যদের জন্য সর্বদা দ্বার উন্মুক্ত যাদের নীতি। ৩০ সদস্য রাষ্ট্র তাদের নীতিতে অবিচল, এর পরিবর্তন হবে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি পরিষ্কার সময়রেখা চান। তবে জার্মানির চ্যান্সেলর স্পষ্ট করে বলেছেন, ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের সম্ভাবনা আপাতত নেই। বর্তমান কোনো ন্যাটো রাষ্ট্র সদস্যপদ ছেড়ে দিলেই তা নতুন রাষ্ট্রের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সমাধানের কূটনৈতিক পথ আছে?

এই মুহূর্তে কূটনৈতিক পথে সমাধানের সুযোগ খুব কমই আছে বলে মনে হচ্ছে। তবে যদি ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পরিকল্পনা করা যায়; সেটি ফলপ্রসূ হতে পারে।

রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে, কিয়েভকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। আর রাশিয়ার এই দাবি কিয়েভ মেনে নিতে পারে বলে মনে হচ্ছে না। 

যুদ্ধের বাইরে যদি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়, তাহলে সেই চুক্তিতে পূর্ব ইউক্রেন পরিস্থিতির সমাধান এবং পশ্চিমের সাথে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করার পাশাপাশি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত নতুন একটি চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন তথা রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের এই সংকটের সমাধান এখন কোন পথে সেটি বলা মুশকিল।

বিবিসির পল কিরবির নিবন্ধ অবলম্বনে।

এসএস