যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সম্ভাব্য সফর ঘিরে সপ্তাহখানেক ধরে জল্পনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট বলছেন, তিনি সৌদি আরব সফর করবেন কি না তা ‘এখনও’ সিদ্ধান্ত নেননি।

রোববার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। অবশ্য বেশ কিছু সূত্র বলছে, চলতি জুনের শেষ দিকে ইউরোপ ও ইসরায়েল সফরের পাশাপাশি সৌদি আরব সফরের পরিকল্পনা করছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

তবে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব ও ইসরায়েলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সম্ভাব্য সফর স্থগিত করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এই দেশ দু’টিতে সফর করার কথা থাকলেও তা জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

হোয়াইট হাউস অবশ্য আগেই বলেছে যে, ২০১৮ সালে তুরস্কে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট এবং সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজের ভূমিকার জন্য সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘পারিয়াহ’ বা অস্পৃশ্য বলে মনে করেন বাইডেন।

তবে জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবরাজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে সৌদি সরকার।

রয়টার্স বলছে, সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সফরে যাবেন কি না, নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আলবুকার্কের একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমরা দেখব।’

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও বেশ ভালোভাবে পড়েছে এবং পেট্রোলের দাম কমানোর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন জো বাইডেন। আর এমন সময়েই সৌদি আরবে ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য এই সফরের কথা শোনা যাচ্ছে। আর এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক জোরদার করা।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঘটে যাওয়া কর্মকাণ্ডকে উপেক্ষা করবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরবকে আট দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক আরও খারাপ না করে তা পুনর্নির্মাণ করে নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জেন পিয়েরে বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

পিয়েরে সেসময় বলেন, ‘দীর্ঘ আট দশক ধরে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার। সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট প্রথম সৌদির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেন এবং এরপর থেকে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সৌদিকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে মনে করেন। তিনি আশা করেন, আঞ্চলিক ও ভৌগলিক রাজনীতিতে আসন্ন দিনগুলোতে সৌদি আরব যুক্তররাষ্ট্রের আরও নির্ভরযোগ্য মিত্র হয়ে উঠবে।’

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের’ বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যমে বাইডেনের আসন্ন সৌদি আরব সফরের খবর প্রকাশ করা হলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কখনোই এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

টিএম