শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির জন্য লাইনে টানা ৫ দিন ধরে অপেক্ষা করতে করতে শেষে মারা গেছেন ৬৩ বছর বয়স্ক এক ট্রাকচালক। বৃহস্পতিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা আঙ্গুরোয়াতোতার একটি জ্বালানি পাম্পে ঘটেছে এই ঘটনা।

আঙ্গুরোয়াতোতা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, মৃত ওই ট্রাকচালক ৫ দিন আগে ওই ব্যক্তি তার ট্রাক নিয়ে লাইনে অবস্থান নেন। তারপর বৃহস্পতিবার লোকজন তাকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

এক সপ্তাহ আগে কলম্বোর একটি পেট্রোল পাম্পে নিজের অটোরিক্সার জন্য জ্বালানি কিনতে গিয়েছিলেন ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি; কিন্তু অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একসময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও নয় জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ওই ট্রাকচালকের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এই সংখ্যা পৌঁছালো দশে।

১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ইতিহাসের সবথেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পার করছে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত দেশ শ্রীলঙ্কা। সীমাহীন অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও করোনা মহামারি এই সংকটের প্রধান কারণ।

বিদেশি মু্দ্রার রিজার্ভ না থাকায় জ্বালানি, খাবার এবং ওষুধের মত অতি জরুরি পণ্যও আমদানি করতে পারছে না ভারত মহাসাগরের ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।

এর মধ্যে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কায়। ডিজেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো। ফলে গত কয়েকমাস ধরে সেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। এছাড়া পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস কিনতে লোকজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

জ্বালানি বাঁচাতে ইতোমধ্যে সাপ্তাহিক কার্য দিবস ৪ দিনে নামিয়ে এনেছে দেশটির সরকার।

গত ১৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দেশে যে পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে, তাতে বড়জোর ৫ দিন কোনোভাবে চলা যাবে।

সেই হিসেবে শ্রীলঙ্কার ডিজেল ও পেট্রোলের মজুত শেষ হয়েছে গত ২১ জুন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেট্রোল-ডিজেলের নতুন চালান কেনার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেই।

এসএমডব্লিউ