রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ফাইল ছবি)

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ‘সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার’ নিন্দা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক এই জোটটিকে ইউক্রেন সংঘাতের মাধ্যমে ‘আধিপত্য’ জোরদারের চেষ্টা করার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন তিনি।

একইসঙ্গে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সতর্কও করেছেন রুশ এই প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ান এই নেতা বুধবার বলেছেন, সামরিক জোটে যোগদানের পরে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনে ন্যাটো যদি সৈন্য ও অবকাঠামো মোতায়েন করে তবে তিনি তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

এর আগে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে ভেটো তুলে নিয়ে সমর্থন দেয় তুরস্ক। প্রথমদিকে ওই দুই দেশের ন্যাটো জোটে যোগদানের বিরোধিতা করেছিল দেশটি। ন্যাটোর নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনো সদস্য নিতে হলে জোটের সবগুলো দেশের সম্মতি থাকতে হয়।

ফলে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ জানালেও তুরস্কের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়। গত মঙ্গলবার তুরস্ক সেই ভেটো তুলে নেয় এবং এর একদিন পরই নর্ডিক এই দেশ দু’টির ন্যাটোতে যোগদান নিয়ে এই মন্তব্য করলেন পুতিন।

মূলত ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে জোটে যোগদানের বিরোধী রাশিয়া। পশ্চিমা এই সামরিক জোট সম্প্রসারণ করতে চাইছে, এমন দাবি তুলে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করেছিল রাশিয়া। কিন্তু মস্কোর সেই অভিযান উল্টো ফলাফল দিতে শুরু করেছে। এতদিন নিরপেক্ষ দেশ হিসাবে থাকলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর এখন ন্যাটো জোটে যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড।

মধ্য এশিয়ার সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তানে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘ইউক্রেনের সঙ্গে আমাদের যে ধরনের সমস্যা রয়েছে সেরকম সমস্যা সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের সঙ্গে নেই। তারা ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়, (তাহলে) এগিয়ে যাও।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, আগে যেখান থেকে কোনো হুমকি ছিল না, এখন যদি সেখানে সামরিক বাহিনী ও অবকাঠামো মোতায়েন করা হয়, তাহলে আমাদেরকেও যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে এবং যে অঞ্চল থেকে আমাদের প্রতি হুমকি তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্যও একই হুমকি সৃষ্টি করা হবে।’

পুতিনের ভাষায়, ‘ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে হেলসিঙ্কি ও স্টকহোমের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক অনিবার্যভাবে খারাপ হবে।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিক ছিল। কিন্তু এখন কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হবে, অবশ্যই (উত্তেজনা) সৃষ্টি হবে। আমাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি হলে এটি (উত্তেজনা) অনিবার্য।’

এদিকে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকের একটি জনবহুল শপিংমলে চলানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। গত সোমবার ইউক্রেনীয় ওই শপিংমলে হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী কোনো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা করে না। কোথায় কী আছে তা জানার সব ক্ষমতা আমাদের আছে।’

টিএম