উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন (ফাইল ছবি)

দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘নির্মূল’ করার হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কোরীয় যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত চুক্তির ৬৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তৃতায় কিম জং উন একথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। গত মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল ক্ষমতা গ্রহণের পর এদিনই দেশটির বিরুদ্ধে কিম তার সবচেয়ে শক্তিশালী বাগাড়ম্বরপূর্ণ আক্রমণ শানিয়ে বক্তব্য দেন। অবশ্য ক্ষমতা গ্রহণের পরই পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউন সুক ইওল।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, কিম জং উন বলেন, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষকে তার দেশের (উত্তর কোরিয়া) বিরুদ্ধে একটি আত্মঘাতী সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

কিম আরও বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এবং দেশটির সামরিক গুন্ডারা আমাদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করার কৌশল তৈরি করছে। এই ধরনের যেকোনো বিপজ্জনক প্রচেষ্টা প্রতিহত করে অবিলম্বে আমাদের শক্তিশালী বাহিনীর মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে এবং (প্রেসিডেন্ট) ইউন সুক ইওলের সরকার ও তার সেনাবাহিনীকে নির্মূল করা হবে।’

ব্লুমবার্গ বলছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগ এখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দিকে সরে গেছে এবং এই সুযোগে কিম জং উন তার উস্কানিমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলতি বছর ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

চলতি বছর কিম রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছেন এবং ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটি হয়তো প্রথমবারের মতো পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইউক্রেনে আগ্রাসনের জেরে বাকি বিশ্ব থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে এখন কার্যত ব্যস্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে পিয়ংইয়ং। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে আরও কোনো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হওয়ার ভয় ছাড়াই নিজের পারমাণবিক ক্ষমতা শক্তিশালী করার পথ পেয়েছেন কিম।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় উত্তর কোরিয়া তার বৃহত্তম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)-সহ একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-দ. কোরিয়ার সামরিক মহড়ার জবাবে একসঙ্গে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল দেশটি।

এর আগে গত ২৫ মে আরেক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। সেসময় বাইডেন পূর্ব এশিয়া ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একে একে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিলেন কিম।

এই পরিস্থিতিতে মে মাসের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য দেশটির ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবে ভেটো দেয় চীন ও রাশিয়া।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সাত দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার মতো অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশ কীভাবে একের পর এক এমন পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও একের পর এক পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ।

প্রসঙ্গত, ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোরীয় যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের বাহিনী, উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। উত্তর কোরিয়া এই দিনটিকে ‘পিতৃভূমিতে বিজয়’ হিসাবে উদযাপন করে থাকে।

টিএম