ছবি : জিইও টিভি

রাজধানী ইসলামাবাদের একটি দায়রা জজ আদালতের বিচারক জেবা চৌধরী, ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও উপ মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) হুমকি দিয়ে মামলার মুখে পড়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আগাম জামিনের মেয়াদ বেড়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক সরকারি দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যানের আইনজীবীদের আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত জামিনের মেয়াদ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করেন। 

পাশিাপাশি, এই জামিন সুরক্ষিত রাখতে এ দিন ইমরান খানকে আদালত বরাবর ১ লাখ রুপি জামানত হিসেবে প্রদানের আদেশও দেন বিচারক। আদেশে বলা হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ইমরান খান জামিনের শর্তবিরোধী কোনো কাজ করেন, সেক্ষেত্রে জামিন বাতিলের পাশাপাশি জামানতের অর্থও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

বিগত দু’বারের মতো এবারও আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির সময় পিটিআই চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেশটির শাসনক্ষমতার প্রভাবশালী অংশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে গ্রেপ্তার হন ইমরান খানের ঘনিষ্ট সহকারী ও পিটিআইয়ের জেষ্ঠ্য নেতা শাহবাজ গিল।

শাহবাজের মুক্তির দাবিতে ব্যাপকভাবে সরব হন পিটিআই চেয়ারম্যান। গত ২১ আগস্ট এক দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইমরান মন্তব্য করেন, যদি অবিলম্বে শাহবাজের ওপর থেকে মামলা প্রত্যাহার ও তাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে ইসলামাবাদ পুলিশের আইজি, ডিআইজি ও যে আদালতে শাহবাজের বিচার চলছে, তার বিচারক জেবা চৌধরীকে ‘দেখে নেবেন’ তিনি।

এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাস ও সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয় ইমরান খানের বিরুদ্ধে। মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পরের দিন ২২ আগস্ট ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন পিটিআইয়ের দুই আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী ও বাবর আওয়ান।

সেই আবেদন মঞ্জুর ইমরান খানকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত জামিন দেন আদালত। সেই জামিনের শেষ দিন— ২৫ আগস্ট ফের আগাম জামিনের আবেদন করেন ইমরানের আইনজীবীরা, এবং ওই দিন জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয় ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

দ্বিতীয় দফায় পাওয়া জামিনের শেষ দিন ছিল ‍বৃহস্পতিবার। এই দিন আবারও আগাম জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা এবং তা মঞ্জুর করে আদালত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন বর্ধিত করলেন।

আগামী বছর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জিততে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা, মিছিল-সমাবেশ করছেন ইমরান খান, ‍যিনি চলতি বছর ১০ এপ্রিল পার্লামেন্টে বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে হারিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ।

সূত্র : জিইও টিভি

এসএমডব্লিউ