নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় ৩৭ জন নতুন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্তত দুজনকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কলেবর বাড়ানোর তথ্য জানিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট দফতরে নতুন প্রতিমন্ত্রীরা প্রেসিডেন্টের কাছে শপথগ্রহণ করেছেন।’

দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের কাছে রয়েছে। তবে এই মন্ত্রণালয়ে আইনপ্রণেতা রনজিথ সিয়ামবালাপিতিয়া ও শিহান সেমাসিংহে নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। করোনা মহামারি, জাতীয় অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের অদক্ষতা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার রাজাপাকসে ভাইদের নেতৃত্বাধীন সরকারের অব্যাবস্থাপনা, অযৌক্তিক কর কাটছাঁট, করোনা মহামারির কারণে পর্যটন ব্যবসায় ধস ও ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা না ভেবে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় দেশটির দুরবস্থার প্রধান কারণ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমদানি করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় খাদ্যের দাম ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার বিপরীতে শ্রীলঙ্কার রুপির মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

গণবিক্ষোভের মুখে গত জুলাইয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। সেই সময় প্রথমে মালদ্বীপ পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। পরে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। 

এদিকে, অর্থনৈতিক সংকটে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে চলতি মাসের শুরুর দিকে ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রাথমিক এক চুক্তিতে (স্টাফ লেভেল) পৌঁছায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আগামী চার বছর ধরে এই অর্থ শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া হবে বলে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে।

গত এপ্রিলে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দেশটির স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তোরণের শেষ অবলম্বন ছিল আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া। অর্থনৈতিক কাঠামো আমূল সংস্কারের শর্তে আইএমএফ দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রকে ঋণ সহায়তায় রাজি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

এসএস