ফাইল ছবি

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় একটি হোটেলে গাড়িবোমা ও বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী হোটেলটি অবরোধ করে এবং তাদের অভিযানে হামলাকারীরা প্রাণ হারায়।

রোববার (২৩ অক্টোবর) সোমালিয়ার কিসমায়ু শহরের একটি হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দরনগরী কিসমায়ুর তাওয়াকল হোটেলের গেটে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার পর গোলাগুলি শুরু হয়। আল কায়েদা-সংশ্লিষ্ট আল শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী বলেছে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সোমালিয়ার জুব্বাল্যান্ড অঞ্চলের নিরাপত্তা মন্ত্রী ইউসুফ হুসেন ধুমাল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘বিস্ফোরণে ছাত্র ও বেসামরিক নাগরিকসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৪৭ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘যে হোটেলটিতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে সেটি একটি স্কুলের কাছে হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।’

এদিকে এই ঘটনার পর হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তিনজন হামলাকারীকে হত্যা করেছে। এছাড়া বোমা বিস্ফোরণের কারণে চতুর্থ এক ব্যক্তি মারা গেছে বলে ধুমাল জানিয়েছেন।

অন্যদিকে কিসমায়ু থেকে ফারাহ মোহাম্মদ নামে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হামলার শিকার হওয়ার আগে আল শাবাবের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করা যায় তার পরিকল্পনা করার জন্য ওই হোটেলে একটি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

পুলিশ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর এবং কিসমায়ুর দোকানদার ফারাহ আলী রয়টার্সকে বলেন, গোলাগুলি শুরুর আগে হোটেলে গাড়িবোমা বিস্ফোরিত হয়। সোমালি ন্যাশনাল টেলিভিশনের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে, নিরাপত্তা কর্মীরা আহতদের একজনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাচ্ছেন বলে দেখা যাচ্ছে।

আল-শাবাবের সামরিক মুখপাত্র আবদিয়াসিস আবু মুসাব বলেছেন, এই হামলার পেছনে তাদের গোষ্ঠী রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুব্বাল্যান্ড অঞ্চলের প্রশাসকদের লক্ষ্য করে হোটেলে এই হামলা চালানো হয়েছে, কারণ ওই প্রশাসকরা হোটেলে থেকে তাদের কাজ করে থাকেন।

কিসমায়ু হলো জুব্বাল্যান্ডের বাণিজ্যিক রাজধানী। দক্ষিণ সোমালিয়ার এই অঞ্চলটি এখনও আংশিকভাবে আল শাবাব নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

টিএম