বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে করোনা সংক্রান্ত সব কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে দেশটির সরকার। লকডাউন নিয়ে বিক্ষুদ্ধ সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করার এক সপ্তাহ পর এমন ঘোষণা আসল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনার বিধিনিষেধ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি এখন কেউ করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে তাকে সরকার নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যেতে হবে না। এর বদলে আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ি এবং পরিবারের কাছে থাকতে পারবেন এবং বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন।  

আগে কেউ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতেন সরকারি কর্মকর্তারা। এমনকি চলতি বছরের নভেম্বরেও একজনকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এছাড়া আগে পাবলিক ভেন্যুগুলোতে বা বড় জমায়েতে যোগ দিতে বাধ্যতামূলক পিসিআর কোভিড পরীক্ষা করতে হতো। এই নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র হাসপাতাল এবং স্কুলে যেতে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে।

বুধবার প্রকাশিত নির্দেশনায় চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লকডাউন আরোপ করতে হবে নির্দিষ্ট ভবনে। একটি ভবনে কেউ আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা বা শহরে বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না।

লকডাউন আরোপিত এলাকা/ভবনে যদি নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হন তাহলে পাঁচদিন পর সেটি তুলে দিতে হবে।

যদি স্কুলে সংক্রমণ মাত্র দুই-তিনজনের মধ্যে থাকে তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে তখন স্কুল বন্ধ করা যেতে পারে।

এছাড়া লকডাউন আরোপিত ভবনে জরুরি প্রস্থান ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে হবে। যেন অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বের হয়ে যেতে পারেন।

গত মাসে চীনের অন্যতম বড় প্রদেশ শিনজিয়ানের একটি ভবনে আগুন লেগে ১০ জন মানুষ নিহত হন। ওই সময় ওই এলাকায় লকডাউন ছিল। বলা হচ্ছে, লকডাউনের কারণে মানুষ বের হতে পারেননি। ফলে এত হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও চীন সরকার এটি অস্বীকার করেছে। তবে ওই ঘটনার পরই রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

যেহেতু করোনার কঠোর বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে তাই বয়োজ্যেষ্ঠদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।

এদিকে বিধি-নিষেধে এসব পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে চীন কঠোর জিরো কোভিড নীতি থেকে সরে আসছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ‘করোনা নিয়েই বসবাস’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

এমটিআই