রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাবেক জামাতা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক-ব্যবসায়ী জোরিৎ ফ্যাসেনের মালিকানাধীন একটি ভূখণ্ড জব্দ করেছে নেদারল্যান্ডসের সরকার। রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রোয়েক্ত মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ফলো দ্য মানির বরাত দিয়ে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

রাজধানী আমস্টার্ডাম ৪ মাইল দূরের গ্রাম ডুইভেনড্রেশট গ্রামে অবস্থিত সেই ভূখণ্ডটির পরিমাণ কত— তা উল্লেখ করেনি গার্ডিয়ান। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরতর আর্থিক প্রতারণা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপরাধমূলক তৎপরতায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের আদালতে মামলা চলছে জোরিতের বিরুদ্ধে। দেশটির পাকলিক প্রসিকিউটর দপ্তর সেই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে গত ১২ মে জব্দ করেছে সেই জমি।

পাবলিক প্রসিকিউটরের নথিতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে— জোরিতের বিরুদ্ধে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এই ভূসম্পতি জব্দ করা হলো।

ভ্লাদিমির পুতিনের দুই মেয়ে— মারিয়া ভোরোনৎসোভা এবং কাতেরিনা তিখোনোভা। জোরিৎ ফ্যাসেন ছিলেন পুতিনের বড় মেয়ে মারিয়ার স্বামী। ২০০৮ সালে তারা বিয়ে করেন। এই দম্পতির ১০ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তানও আছে। মারিয়া ভোরোনৎসোভা পেশায় একজন জীববিজ্ঞানী।

সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তাদের মধ্যে; কী কারণে এই বিচ্ছেদ — তা এখনও অজানা। তবে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলেও নিজ দেশ নেদারল্যান্ডসে না ফিরে মস্কোতেই বসবাস করছেন জোরিৎ ফ্যাসেন।

সাম্প্রতিক এই জমি জব্দের ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চেয়ে জোরিৎকে ফোন করেছিল দ্য গার্ডিয়ান, তবে তিনি ফোনকল ধরেননি।

পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে অভিযান শুরু করার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মারিয়া ভরোনোৎসোভা ও কাতেরিনা তিখোনভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউয়নিয়ন; কিন্তু জোরিতের বিরুদ্ধে এখনও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

ঠিক কী কারণে নিজ দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিল নেদারল্যান্ডসের সরকার— এ ব্যাপারে পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তরের কেউ মুখ খোলেননি। তবে দেশটির আইনজীবী ও নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ হেলিন ওভের দে লিন্ডেনের মতে, নিষেধাজ্ঞা না দিলেও পুতিনের ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে নেদারল্যান্ডসের সরকারের ‘টার্গেটে’ পড়েছেন জোরিৎ।

এসএমডব্লিউ