গত জুলাইয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে এই হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলায় অন্তত ২৯ সৈন্য নিহত হয়েছেন। মালির সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের হামলায় সৈন্যদের প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

গত জুলাইয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে এই হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে আলজেরিয়ার দেওয়া প্রস্তাব নাইজার গ্রহণ করেছে বলে সোমবার আলজেরিয়া জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলজেরিয়ার মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাব মেনে নেওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে নাইজারের জান্তা।

নাইজারের প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাঁসোর ক্ষমতায় আছে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক বাহিনী। তিন দেশের জান্তা সরকারই নিজ নিজ দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

সাহেল অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং একে অপরকে রক্ষার লক্ষ্যে গত মাসে তারা একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পর ঘাঁটিতে ফেরার পথে আক্রান্ত হয়েছেন নাইজারের সৈন্যরা। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে সৈন্যদের হত্যার চেষ্টা করেছে। সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে অতর্কিত হামলায় অংশ নিয়েছেন শত শত বিদ্রোহী।

নাইজারের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলায় ২৯ সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুই সৈন্য। সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক ডজন বিদ্রোহীও নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

তবে কোন বিদ্রোহীগোষ্ঠী নাইজারের সৈন্যদের ওপর হামলার জন্য দায়ী, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এছাড়া অতর্কিত এই হামলার ঘটনা ঠিক কখন ঘটেছে সেটিও জানায়নি নাইজারের সেনাবাহিনী। তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবরের মাঝে নাইজারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে।

সৈন্যদের প্রাণহানির এই ঘটনায় নাইজারে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

এসএস