আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা -ছবি এপি/মাহমুদ ইলিয়ান।

পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় জুমায় আল-আকসা মসজিদে আজ শুক্রবার (২২ মার্চ) একসঙ্গে নামাজ পড়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার মুসল্লি।  

দখলদার ইসরায়েলের নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক বাধা সত্ত্বেও এদিন পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের আল-আকসায় জড়ো হন হাজার হাজার মুসল্লি।

১ লাখ ২০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেরুজালেমের ইসলামিক প্রতিষ্ঠান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গায় চেকপয়েন্ট বসিয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। এছাড়া ওল্ড সিটির উন্মুক্ত গেইটে লোহার ব্যারিকেড বসিয়েছে তারা।

ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হলো আল-আকসা মসজিদ। তবে আল-আকসায় প্রবেশে মুসলিমদের যে একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে সেটি কেড়ে নিতে চায় দখলদার ইসরায়েল। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও আল-আকসায় ইবাদতের জন্য একমাত্র মুসলিমদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু সেটির তোয়াক্কা করে না ইসরায়েলি সরকার।

পবিত্র রমজান মাসেও যেন মুসল্লিরা যে আল-আকসায় যেতে না পারেন সেজন্য সেখানে প্রবেশের আগে পূর্ব অনুমতির ব্যবস্থা করেছে ইসরায়েল।

এর আগে রমজানের প্রথম জুমায় আল-আকসায় ৮০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন। কিন্তু ওইদিন মসজিদটিতে শুধুমাত্র ৫৫ বছরের উর্ধ্বের পুরুষ এবং ৫০ বছরের উর্ধ্বের নারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এছাড়া আগে থেকেই অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছিল ইসরায়েল। ফলে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি প্রথম জুমায় আল-আকসায় প্রবেশ করতে পারেননি।

গত বছরের অক্টোবর গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধের দোহাই দিয়ে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু রমজান মাস আসার পর তারা নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলের উগ্রপন্থিমন্ত্রী ইতামার বেন গিভির চেয়েছিলেন রমজানেও যেন আল-আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।

তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার এ প্রস্তাবে রাজি হননি। কারণ নেতানিয়াহু ভয় পেয়েছিলেন এই ভেবে যে, যদি রমজানেও মুসল্লিদের পবিত্র এ মসজিদে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয় তাহলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমটিআই