যুক্তরাষ্ট্রে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক নিষিদ্ধ করতে একটি বিতর্কিত ল্যান্ডমার্ক বিল অনুমোদন করেছে দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। এর আওতায় টিকটকের চীনা মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের শেয়ার আগামী ৯ মাসের মধ্যে বিক্রি করে দিতে হবে।

অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রে এই অ্যাপটি ব্লক করে দেওয়া হবে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এদিকে সিনেটে পাসের পর বিলটি এখন স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে যাবে এবং তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অবশ্য আগেই বলেছেন, বিলটি তার ডেস্কে পৌঁছানোর সাথে সাথে এটিতে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করবেন তিনি।

আর শেষ পর্যন্ত তেমনটি হলে বাইটড্যান্সকে বাধ্যতামূলকভাবে টিকটক বিক্রির বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন চাইতে হবে। যদিও তেমন কোনও কিছুর বিষয়ে ইতোমধ্যেই জোরালোভাবে বিরোধিতা করছে বেইজিং।

সিনেটে বিল পাসের প্রতিক্রিয়ায় বাইটড্যান্স বিবিসিকে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের কাছে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। এর আগে অবশ্য তারা বলেছিল, টিকটক বিক্রি করতে বাধ্য করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে তারা।

বিবিসি বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বাইটড্যান্সকে টিকটক বিক্রি করতে বাধ্য করতে সফল হয়, তবে সেই ধরনের কোনও চুক্তির জন্য এখনও চীনা কর্মকর্তাদের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বেইজিং এই জাতীয় পদক্ষেপের বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর সময় নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চারটি বিলের একটি প্যাকেজের সাথে এ বিলটি পাস হয়েছিল, যার সাথে ইউক্রেইন, ইসরায়েল, তাইওয়ান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের জন্য সামরিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল।

মূলত মার্কিন সিনেটে এ বিল বড় ধরনের সমর্থন পেয়েছে। সেখানে ৭৯ জন সিনেটর বিলটির পক্ষে আর ১৮ জন বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর একটিকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দিয়েছি, আর এটি বিপজ্জনকভাবে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল।’

জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং এই অ্যাপটির বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী আছে। তবে এখন এর সঙ্গে চীনা সরকারের যোগসূত্র এবং এর ব্যবহারকারীদের তথ্য উপাত্তের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমশ প্রশ্ন উঠছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুটি দলের আইনপ্রণেতারা আইনে পরিণত করার জন্য যে বিলটি পাস করেছেন তাতে একটি নন-চীনা কোম্পানির কাছে অ্যাপটি বিক্রি না হলে এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারি হবে।

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ভয়, চীনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীরা তথ্য উপাত্ত তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য টিকটককে বাধ্য করতে পারে। টিকটক অবশ্য বরাবরই বলেছে, বিদেশি ব্যবহারকারীদের তথ্য তারা চীনা সরকারকে দেবে না।

উল্লেখ্য, টিকটকের বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগ এবারই নতুন নয়। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০২০ সালে হোয়াইট হাইসে থাকার সময়ে এই অ্যাপটি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।

ট্রাম্প অবশ্য ২০২৪ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী। তবে তিনি নতুন আইনের সমালোচনা করে বলেছেন- টিকটকের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হলে সেটি ফেসবুককে লাভবান করবে।

টিএম