নাইজেরিয়ায় টানা বেশ কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কারাগারের দেয়ালের কিছু অংশ বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেই ভাঙা অংশ দিয়ে পালিয়ে গেছেন অন্তত ১১৮ জন কয়েদি। বৃহস্পতিবার রাজধানী আবুজার নিকটবর্তী সুলেজা শহরের কারাগারে ঘটেছে এই ঘটনা।

আগের দিন বুধবার টানা বেশ কয়েক ঘণ্টা ভারী বর্ষণ হয়েছিল আবুজা ও তার আশপাশের শহরগুলোতে। কারাগারের মুখপাত্র আদামু দুজা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তুমুল বৃষ্টিতে কারাগারের সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। ভাঙা সেই অংশ দিয়েই পালিয়েছেন কয়েদিরা। কারাগারটির নিরাপত্তার ব্যবস্থা মধ্যমমাত্রার ছিলো বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে— উল্লেখ করে বিবৃতিতে আদামু দুজা বলেন, ‘পলাতক কয়েদিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছেন। সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ, যদি আপনার/ আপনাদের আশে পাশে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তিকে দেখেন, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

নাইজেরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১০ পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পালানো কয়েদিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করে নি কারা কর্তৃপক্ষ, তবে সেলুজার ওই কারাগারটিতে মূলত নাইজেরিয়াভিত্তিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের আসামিদের রাখা হতো।

নাইজেরিয়ায় অবশ্য কারাগার থেকে কয়েদিদের পালানো তেমন বিরল কোনো ঘটনা নয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েদির সংখ্যাধিক্য, সরকারি বরাদ্দের স্বল্পতা এবং শিথিল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মাঝে মাঝেই কারাগারগুলোতে কয়েদিদের পালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং কয়েদিরাও ভালোভাবেই সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন।

গত কয়েক বছরে দেশটির বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়েছেন হাজার হাজার কয়েদি। তাদের সবাইকে ফের গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালের জুলাই মাসে রাজধানী আবুজার একটি উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারাগারে হামলা চালিয়েছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। সে সময় প্রায় ৪৪০ জন কয়েদি পালিয়েছিলেন কারাগারটি থেকে।

কারগারগুলোর দুরাবস্থার ব্যাপারটি স্বীকার করে বিবৃতিতে দুজা বলেন, ‘অধিকাংশ কারাগার ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি করা হয়েছিল এবং সংস্কারের অভাবে বর্তমানে অনেকগুলো কারাগার যে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে— সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সচেতন।’

‘তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত রাজধানী আবুজাসহ অন্য পাঁচটি শহরে ৬টি নতুন কারাগার নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি কারাগার ৩ হাজার কয়েদি ধারণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া পুরোনো কারাগারগুলোকেও মেরামত করা হবে।’

সূত্র : এএফপি

এসএমডব্লিউ