অবৈধ উপায়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় ১৬৪ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৪৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধারের পর আটক করেছে লিবিয়া। দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার ও আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ভূমধ্যসাগরে বেশ কয়েকটি নৌকায় ভাসতে থাকা এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করা হয়। 

উদ্ধারকৃত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সবাই আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। লিবিয়ার নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, উদ্ধারের পর ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ত্রিপোলিতে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।

পরে দেশটির অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ত্রিপোলির একটি আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির বলেছেন, তারা এই ঘটনার ব্যাপারে অবগত আছেন।

চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারী অন্তত ৯ হাজার ২১৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করে। গত বছরের একই সময়ে ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারের এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজারের কিছু বেশি। লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ তিজানি মাজেন ইউরোপীয় কমিশনার ফর হোম অ্যাফেয়ার্স ইলভা জোহানসনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অপর এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসকে মাজেন বলেছেন, বর্তমানে লিবিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নথিবিহীন প্রায় ৭ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ১১ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরপথে অবৈধভাবে লিবিয়ায় পৌঁছেছেন। এছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৭০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। গত বছর ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪০০। 

গত ১৮ মে ভূমধ্যসাগরে ডুবতে থাকা একটি নৌকা থেকে ৬৮ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিশিয়ার নৌবাহিনী। লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার চেষ্টার সময় সাগরে ডুবে যায় নৌকাটি।

এসএস/জেএস