মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ৩৫ বছরের রেকর্ড ভাঙলো ইরান
ইরানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালে অন্তত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে গত ৩৫ বছরের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ-সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএইচআর বলেছে, গত বছর ইরানে অন্তত এক হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই পরিসংখ্যানকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এই সংখ্যাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘‘গত ৩৫ বছরে এই রেকর্ড নজিরবিহীন। ইরান হিউম্যান রাইটস প্রতিষ্ঠার পর এমন সংখ্যা আমরা কখনও দেখিনি।’’
আইএইচআর ও ফরাসি সংগঠন টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টির (ইসিপিএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানে অন্তত ৯৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
যদিও ২০২৫ সালের চূড়ান্ত হিসাব এখনও প্রকাশ করেনি আইএইচআর। তবে সংগঠনটি বলেছে, অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য তারা যাচাই করে দেখেছে। তাদের মধ্যে ৭০০ জনের বেশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন।
আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ইরানে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি-কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে দেশটির বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
আইএইচআরের এই পরিচালক বলেছেন, ইরানে ২০২২ সালে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা ৮০০ ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ৯৭৫ জন ছিল। আর গত বছর তা রেকর্ড ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে।
এই নতুন হিসাব এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ বলেছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের লোরদেগান শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ‘‘ইরানি কর্তৃপক্ষ ভীতি সৃষ্টি করার হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করে।’’ তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্দেশ্য ছিল নতুন বিক্ষোভ ঠেকানো। কিন্তু এখন যেমনটা দেখা যাচ্ছে, শাসকগোষ্ঠী এতে সফল হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি।
সূত্র: এএফপি।
এসএস