প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন এখন থেকে ভেনেজুয়েলা চালাবেন তারা। তার এ মন্তব্য অনেককে অবাক করে। কীভাবে মার্কিন সেনাদের পাঠানো ছাড়া তিনি ভেনেজুয়েলাকে চালাবেন সে প্রশ্নও ওঠে।

সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) এ নিয়ে একটি ধারণা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, মাদুরোকে গত কয়েকমাস ধরেই সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য তারা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নৌকায় হামলা, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ এমনকি ভেনেজুয়েলার একটি ডকেও হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু মাদুরো এগুলোতে কর্ণপাত করছিলেন না। এরবদলে তিনি বিভিন্ন সময় নাচের ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। এরপর ট্রাম্পের দলের কয়েকজন ট্রাম্পকে বোঝান যে, মাদুরো আসলে তাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। এরপর তারা সামরিক উপায়ে মাদুরোকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন সরকারের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটি বলেছেন, সদ্যই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দিয়ে এখন ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মাদুরোকে আটকের কয়েক সপ্তাহ আগেই তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে পছন্দ করে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ব্যবস্থাপনাকে বেশ ভালোভাবে সামলাচ্ছিলেন। যা ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিভূত করেছে। আর এ কারণে তাকে দিয়েই ভেনেজুয়েলা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যখন এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল তখন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, ডেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তিনি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে রক্ষা করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা ডেলসিকে নিয়ে বলেছেন, “আমি তার ক্যারিয়ারকে দীর্ঘদিন ধরে ফলো করছি। তাই আমার ধারণা আছে ডেলসি কে এবং তিনি কি করতে পারবেন। আমি বলছি না, ডেলসি ভেনেজুয়েলা সমস্যার স্থায়ী সমাধান। কিন্তু তিনি এমন একজন যার সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারব। যেটি মাদুরোর সঙ্গে আমরা করতে পারছিলাম না।”

মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ক্ষমতায় চাননি ট্রাম্প

নিকোলাস মাদুরোর বদলে ডেলসি রদ্রিগেজকে দিয়ে ভেনেজুয়েলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই করে রেখেছে। সেখানে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিয়া মাচাদোকে রাখেননি ট্রাম্প। যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলকে তিনি একত্রিত করেছিলেন এবং ধারণা করা হয় তার সমর্থিত দলই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। 

গতকাল যখন মাচাদোর ব্যাপারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়। তখন ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলাকে চালানোর মতো জনসমর্থন মাচাদোর নেই। অথচ মাদুরোকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে মাচাদো বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত।

ট্রাম্প শুধু মাচাদোকেই বাদ দেননি। তার মিত্র ও মাদুরোর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এডমুন্ড গঞ্জালেজের নামও তিনি উচ্চারণ করেননি। যেখানে গঞ্জালেজ বিপুল ভোটে জিতেছিলেন বলে পশ্চিমারাই জানিয়েছিল।

রদ্রিগেজ কথা না শুনলে আবারও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হবে তিনি তাদের নীতি কতটা কার্যকর করছেন সেটির ওপর ভিত্তি করে। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা না করলে পরবর্তী সামরিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

যদিও রদ্রিগেজ নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিন্তু অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এখনই তার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে তারা উপনীত হচ্ছেন না। তারা দেখবেন রদ্রিগেজ তাদের কথা কতটা শুনছেন। তিনি বলেছেন, তাদের আশা রদ্রিগেজের সঙ্গে তারা কাজ করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন বাড়াতে পেরেছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে অর্থনীতি কিছুটা ভালো করছিলেন। আর এ বিষয়টিই মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে ভালো লেগেছে। এ কারণে তারা এখন তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

এমটিআই